ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি পদে আলোচনায় শাফায়েত
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা সাবেক ছাত্রনেতা শাফায়েত রাব্বি আরাফাত ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আগামী কমিটির সভাপতি পদের দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক ভূমিকা, আইনি জটিলতা মোকাবিলা এবং যুবদলের জোনাল পুনর্গঠনে অবদানের কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ তাকে আগামী দিনের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন।
শাফায়েত রাব্বি আরাফাত বৃহত্তর মিরপুরের তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে এসে পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় স্থবির হয়ে পড়া বিভিন্ন থানা ও কলেজ ইউনিটগুলোর সাংগঠনিক প্রক্রিয়া গতিশীল করতে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে তিনি ভূমিকা রাখেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, তৎকালীন তৃণমূল পর্যায়ে গঠিত এই সাংগঠনিক কাঠামোই পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্রদলের দায়িত্ব পালনকালে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সংগঠিত রাখা এবং দলীয় কর্মসূচিতে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার সাংগঠনিক দক্ষতা দলে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়।
বিগত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শাফায়েত রাব্বি আরাফাতকে দীর্ঘ সময় আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। মিরপুর, পল্টন, মতিঝিল, রমনা ও শাহবাগসহ বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন ধারায় শতাধিক মামলা করা হয়। এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সম্পৃক্ত ১১টি মামলাও রয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক কারণে তাকে দীর্ঘ সময় পুলিশি হয়রানি ও পৈতৃক বাসভবনে তল্লাশির মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে মামলা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মসূচি, বিশেষ করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আইনি শুনানির দিনগুলোতে রাজপথের কর্মসূচিতে তার নিয়মিত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
ছাত্রদলের রাজনীতি শেষে শাফায়েত রাব্বি আরাফাত ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান এবং একই সাথে মোহাম্মদপুর সাংগঠনিক জোনের টিম লিডার মনোনীত হন। এই জোনের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি স্থানীয় যুবদলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ নিরসন এবং বিভিন্ন উপ-গ্রুপের মধ্যে সমন্বয় সাধনে কাজ করেন।
কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা এবং নতুন কর্মীদের যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তিনি ভূমিকা রাখেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে, শ্রম ও ত্যাগের পরিমাপক বিবেচনা করে মোহাম্মদপুর অঞ্চলের যুবদলের ৯টি কার্যকরী ওয়ার্ড কমিটি তার তত্ত্ববধানেই মহানগর উত্তরে প্রথম চূড়ান্ত রূপ পায়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট থানা কমিটিগুলোও বর্তমানে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, শাফায়েত রাব্বি আরাফাতের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কোনো বড় ধরনের বিতর্ক বা নেতিবাচক প্রভাব নেই। সংগঠনের প্রতি আনুগত্য, দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা এবং বিগত দিনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মাঠে থাকার বিষয়টি বিবেচনা করে, আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি পদে মূল্যায়ন করা উচিত বলে মনে করছেন তার সমর্থক ও স্থানীয় মাঠপর্যায়ের কর্মীরা।
Comments