শতাধিক ময়ূরের দখলে ইতালির শহর: অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা
ইতালির সমুদ্রতীরবর্তী শান্ত ও ছোট শহর পুন্তা মারিনা। প্রায় ৩ হাজার বাসিন্দার এই শহরে এখন রাজত্ব করছে ১৫০টিরও বেশি ময়ূর। শহরের রাস্তাঘাট, মানুষের বাড়িঘর আর ছাদ কিংবা ঘরের বাগান—সবখানেই এখন এই রঙিন পাখিদের অবাধ বিচরণ। তবে দেখতে সুন্দর হলেও এই ময়ূরদের বিভিন্ন আচরণে এখন রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শহরের সৌন্দর্য বাড়ালেও ময়ূরগুলোর কারণে বাসিন্দাদের পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি। বর্তমানে দেশটিতে বসন্তের প্রজনন মৌসুম চলায় দিন-রাত ময়ূরগুলোর তীব্র ডাকাডাকিতে স্থানীয় মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে। পার্ক করে রাখা গাড়ির চকচকে বডিতে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে ময়ূরগুলো সেটিকে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী পাখি ভাবছে। ফলে সেটিকে আক্রমণ করতে গিয়ে নখ দিয়ে আঁচড়ে দামি দামি গাড়ির রং নষ্ট করে ফেলছে। রাস্তাঘাট, ফুটপাত এবং বাড়ির আঙিনায় ময়ূরের বিষ্ঠার কারণে নোংরা পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যা মানুষের হাঁটাচলার জন্যও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
করোনা মহামারির লকডাউনের সময় ঘরের বাইরে মানুষের চলাচল বন্ধ ছিল। তখন স্থানীয় বাসিন্দারা ভালোবেসে এই পাখিগুলোকে খাবার দেওয়া শুরু করেন। তাছাড়া এই উপকূলীয় শহরে ময়ূর শিকার করার মতো কোনো বন্য প্রাণী না থাকায় এদের বংশবৃদ্ধি ঘটেছে জ্যামিতিক হারে।
ময়ূরদের তাড়ানো নিয়ে শহরের ৩ হাজার বাসিন্দার মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা দিয়েছে। শহরের অর্ধেক মানুষের মতে, এই উপদ্রব থেকে বাঁচতে ময়ূরগুলোকে ধরে কোনো চিড়িয়াখানায় বা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে স্থানান্তরিত করা হোক।
বাকি অর্ধেক মানুষ ময়ূরদের পক্ষে কথা বলছেন। তাদের মতে, এই রঙিন পাখিদের কারণে শহরে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে এবং অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এখানে এসে ভিডিও তৈরি করছেন, যা শহরের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে।
এর আগে ২০২২ সালে কিছু ময়ূর চিড়িয়াখানায় পাঠানোর চেষ্টা করা হলে তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। তবে এবার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে শহর কর্তৃপক্ষ প্রথমে ময়ূরগুলোর সঠিক সংখ্যা জানতে একটি 'আদমশুমারি' বা পাখি গণনার কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। গণনা শেষ হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাণী অধিকার সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি ও পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সূত্র: সিএনএন
Comments