সি’র সঙ্গে বৈঠক শেষে চীন ছাড়ছেন ট্রাম্প
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে বেইজিং ত্যাগ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব রাখা এই বৈঠকটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ছিল তীব্র কৌতূহল।
বৈঠক শেষে বেইজিং ছাড়ার পথে এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, দুই দেশের মধ্যকার 'অনেক ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার' সমাধান করা হয়েছে। তবে দুই পরাশক্তির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে, এমন মূল ও সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
চীন-মার্কিন সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় তাইওয়ান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন সি চিন পিং। সি স্পষ্ট করে বলেন, চীন-মার্কিন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ানই হলো 'সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু'।
তিনি ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন: "এই সংবেদনশীল বিষয়টি যদি কোনোভাবে ভুল উপায়ে মোকাবিলা করা হয়, তবে তা ভবিষ্যতে একটি 'অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি' তৈরি করতে পারে।"
চীনের প্রেসিডেন্টের এমন কড়া হুঁশিয়ারির পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী অবস্থান এখনো 'অপরিবর্তিত' রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, বৈঠকে তাঁরা ইরানের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। তেহরানের কাছে কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়—এই মূল বিষয়ে দুই নেতাই একমত হয়েছেন। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের এই যুদ্ধ 'কখনোই হওয়া উচিত ছিল না।'
বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্প তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, এই পথ উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের মোটেও নেই; কিংবা অন্তত চীনের যতখানি প্রয়োজন, মার্কিনদের ততখানি প্রয়োজন নেই। এর মাধ্যমে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের নির্ভরতা অনেক বেশি।
যদিও বড় কোনো বাণিজ্যিক বা ভূ-রাজনৈতিক চুক্তির ঘোষণা এই বৈঠক থেকে আসেনি, তবুও দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেতার মুখোমুখি এই আলোচনা বিশ্ববাজার ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির ঘোষণা না এলেও এই সংলাপ দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা কমিয়ে আগামীতে একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
সূত্র: সিএনএন ও রয়টার্স
Comments