গোপালগঞ্জে বিধবা নারীর ২ বিঘা জমির ধান কেটে দিলেন এমপি জিলানী
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গুয়াধানা গ্রামের কৃষানী নমিতা বিশ্বাস। স্বামীকে হারিয়ে সংসারে এখন তিন কন্যা সন্তান। স্বামীর রেখে যাওয়া ২ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করে সংসার চালাতে হয় তাকে। এ বছর স্বামীর রেখে যাওয়া ২ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হলেও শ্রমিক সংকট ও উচ্চ মজুরির কারনে সেই মুখের হাসি মলিন হতে বসেছিলে। স্বপ্নের সোনালী ধান ঘরে তুলেতে পারবেন কি না তাই নিয়ে ছিলেন সংশয়ে।
তবে বিষয়টি জানার পর বুধবার (১৩ মে) সকাল ৬ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জ-০৩ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. জিলানী দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ওই নারীর ২ বিঘা জমির ধান কেটে ঘরে তুলে দেন।
ধান কাটার সময় তিনি মাঠের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও শ্রমিক সংকটের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এসময় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার মোল্লা, খালিদ বিশ্বাস, পৌর বিএনপির সভাপতি এমদাদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক জিহাদুল ইসলাম বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল সরকার, পাটগাতী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নান্টু শেখ, গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিপক চন্দ্র মন্ডল, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক জসিম শেখসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিধবা নারী নমিতা বিশ্বাস বলেন, আমার তিন কন্যা সন্তান আর স্বামীও মারা গেছেন। আর শ্রমিকের মূল্য দিনপ্রতি ১২০০ টাকা। টাকা না থাকায় আমার জমির ধান কাটতে পারছিলাম না। তখন এম.পি এস.এম জিলানী সাহেব লোকজন নিয়ে আমার জমির ধান কেটে দিয়েছেন। এতে আমার অনেক উপকার হয়েছে।
এমপি এস.এম জিলানী বলেন, চলতি মৌসুমে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া কষ্টসাধ্য। অনেক মানুষ টাকা দিয়ে ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছে না। সেজন্য দল থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যে গরীব অসহায় মানুষগুলো ধান কাটতে পারছে না, তাদের ধান কেটে বাড়িতে উঠিয়ে দিলে তারা কিছুটা হলেও উপকৃত হবে। তাই এই ধান কাটা মৌসুমে আগামী এক সপ্তাহ ধান কাটতে মানুষের পাশে দাঁড়াবো।
তিনি আরও বলেন, কৃষকরা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি| তাদের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো সকলের নৈতিক দায়িত্ব। কৃষির উন্নয়নে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
Comments