৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের অনুমোদন বাংলাদেশ ব্যাংকের
দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চরম সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বন্ধ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানসমূহ:
তালিকায় থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার বর্তমানে ৯৩ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: এফএএস (FAS) ফাইন্যান্স (খেলাপি ঋণ ৯৯.৯৯%), ইন্টারন্যাশনাল লিজিং (খেলাপি ঋণ ৯৯.৪৪%), ফারইস্ট ফাইন্যান্স (খেলাপি ঋণ ৯৮.৫০%), পিপলস লিজিং (খেলাপি ঋণ ৯৫%), আভিভা ফাইন্যান্স (খেলাপি ঋণ ৯৩.৯৩%)
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। আগামী অর্থবছরের বাজেটে সরকার এই অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছে। এই অর্থ নিশ্চিত হওয়ার পরই আগামী জুলাই থেকে অবসায়ন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
ব্যাংক রেজুলেশন আইনের আওতায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে। সম্পদ বিক্রিলব্ধ অর্থ এবং সরকারি বরাদ্দ মিলিয়ে পর্যায়ক্রমে আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধ করা হবে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলো দেউলিয়া হওয়ার পথে। বিশেষ করে আলোচিত পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও এফএএস ফাইন্যান্স থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অবশেষে কঠোর এই সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
Comments