শিশুদের স্ক্রিন আসক্তি ও তথ্য চুরির অভিযোগে কাঠগড়ায় নেটফ্লিক্স
জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং শিশুদের দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে আটকে রাখার অনৈতিক কৌশল অবলম্বনের অভিযোগে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্য। সোমবার টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল এই মামলাটি দায়ের করেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
টেক্সাস কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নেটফ্লিক্স দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। নেটফ্লিক্স দাবি করে যে তারা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে না, কিন্তু বাস্তবে তারা দর্শকদের দেখার অভ্যাস, পছন্দ এবং ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ডেটা ব্রোকারদের কাছে বিক্রি করেছে। প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে আসক্ত রাখতে 'ডার্ক প্যাটার্ন' বা মনস্তাত্ত্বিক কৌশল ব্যবহার করে। বিশেষ করে 'অটোপ্লে' ফিচারের মাধ্যমে একটি ভিডিও শেষ হওয়া মাত্রই পরবর্তী ভিডিও চালু করে দর্শকদের বিরতিহীনভাবে স্ক্রিনে আটকে রাখা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নেটফ্লিক্সের মূল লক্ষ্য ছিল শিশু ও পরিবারগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইন রাখা, যাতে তাদের থেকে অধিক পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করে মুনাফা অর্জন করা যায়। অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষায়, "আপনি যখন নেটফ্লিক্স দেখেন, তখন নেটফ্লিক্সও আপনাকে পর্যবেক্ষণ করে।"
টেক্সাস কর্তৃপক্ষ বলছে, নেটফ্লিক্সের এসব কার্যক্রম 'প্রতারণামূলক ব্যবসায়িক কার্যক্রমবিরোধী আইন' লঙ্ঘন করেছে। দাবিনামায় বলা হয়েছে,অবৈধভাবে সংগ্রহ করা সকল তথ্য অবিলম্বে মুছে ফেলতে হবে। ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনে তথ্য ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। প্রতিটি নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার করে জরিমানা করতে হবে।
তবে এসব অভিযোগকে পুরোপুরি 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছে নেটফ্লিক্স। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানান, এই মামলাটি ভুল ও বিকৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। তাদের দাবি, নেটফ্লিক্স প্রতিটি দেশের তথ্য সুরক্ষা আইন মেনেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
Comments