দেশে আসছে সাড়ে ৯ কোটি ডোজ টিকা: সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহ
দেশের টিকাদান কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করতে ইউনিসেফের মাধ্যমে ১০টি ভিন্ন ধরনের প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ (৯৫ মিলিয়ন) ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহের বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। আজ মঙ্গলবার সকালে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই তথ্য জানান।
উপদেষ্টা জানান, এই বিশাল পরিমাণ জীবনরক্ষাকারী প্রতিষেধক সংগ্রহের জন্য সরকার ইতিমধ্যেই ইউনিসেফকে ৮৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় যে ১০টি রোগের ভ্যাকসিন আসবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
-
এমআর (হাম-রুবেলা), টিডি, বিসিজি ও টিসিভি।
-
ওরাল পোলিও (ওপিভি) ও পেন্টা ভ্যাকসিন।
ভ্যাকসিন আসার সময়সীমা উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, মে মাস থেকেই টিকার বড় চালানগুলো আসতে শুরু করেছে।
এরমধ্যে ৩ মে এসেছে ১৫ লাখ ডোজ আইপিভি। ৬ মে এসেছে ১৫ লাখ ডোজ এমআর ও ৯ লাখ ডোজ টিডি। ১০ মে পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ ডোজ টিকা সরকারের হাতে পৌঁছেছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৯৫ মিলিয়ন ডোজের পুরো সরবরাহ সম্পন্ন হবে।
উপদেষ্টা আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে বর্তমানে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। নতুন এই ৯৫ মিলিয়ন ডোজ যুক্ত হলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস দেশে কোনো ভ্যাকসিনের ঘাটতি হবে না। এছাড়া ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে ইউনিসেফের কারিগরি সহায়তায় 'কোল্ড চেইন' ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে উপদেষ্টা জানান, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এমআর টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ইতিমধ্যেই অর্জিত হয়েছে। হামের সংক্রমণ রোধে ইমিউনিটি তৈরিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়, তাই সরকার নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো শিশু যদি টিকা থেকে বাদ পড়ে থাকে, তবে দ্রুত নিকটস্থ কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ জানান তিনি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইয়াসীন এবং প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
Comments