ঘাটতি মেটাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পথে সরকার
জ্বালানি তেল ও এলপিজি'র মূল্যবৃদ্ধির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ১.৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিশাল অংকের ভর্তুকির চাপ সামাল দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই বিতরণ কোম্পানিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে এই আবেদন জমা দিতে পারে এবং আগামী মাসের শুরুতেই নতুন দাম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক অবস্থা সংকটাপন্ন। এর পেছনে কাজ করছে তিনটি প্রধান কারণ:
বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের যে খরচ হচ্ছে, তা গ্রাহক পর্যায়ে আদায়কৃত দামের চেয়ে প্রায় ৫.৫০ টাকা বেশি।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৫৬,৪৭৫ কোটি টাকা। সরকার ইতিমধ্যে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ দিলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। অনেক কেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে না থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী বিশাল অংকের 'ক্যাপাসিটি চার্জ' পরিশোধ করতে হচ্ছে। এছাড়া এলএনজি, কয়লা ও তেলের আমদানি ব্যয় বাড়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
বিদ্যুতের এই প্রস্তাবিত দাম এমন এক সময়ে এলো যখন জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে:
- অক্টেন: লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে এখন ১৪০ টাকা।
- পেট্রোল: লিটারপ্রতি ১৯ টাকা বেড়ে এখন ১৩৫ টাকা।
- ডিজেল ও কেরোসিন: যথাক্রমে ১১৫ টাকা ও ১৩০ টাকা।
অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়লে তার বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শিল্প-কারখানায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য গড়ে ৮.৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।
Comments