তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে ব্যবসা করতে পারছে না
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ২০২৫ সালে কঠিন সময় পার করেছে। অধিকাংশ কোম্পানিই মূল্যস্ফীতি ও ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে আগের মতো লাভ করতে পারেনি।
১৩টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে বেশিরভাগই ডিসেম্বর শেষে হিসাব বছর শেষ করে। এদের মধ্যে ১০টি ইতোমধ্যে তাদের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে।
লাভের অবস্থা
• ৩টি কোম্পানির মুনাফা কিছুটা বাড়লেও আগের বছরের চেয়ে কম
• ৪টি কোম্পানি ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন মুনাফা করেছে
• ২টি কোম্পানি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লোকসান দিয়েছে
• শুধু একটি কোম্পানি – মোবাইল কোম্পানি রবি রেকর্ড মুনাফা করেছে
কেন এই অবস্থা?
বিশেষজ্ঞদের মতে:
• মূল্যস্ফীতির কারণে কাঁচামালের খরচ বেড়েছে
• কিন্তু কোম্পানিগুলো সেই বাড়তি খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপাতে পারেনি
• কারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে
• ফলে বাজারে চাহিদা কমেছে
বিক্রির চিত্র
অনেক কোম্পানির বিক্রির প্রবৃদ্ধি কমেছে।
কিছু কোম্পানির বিক্রি সরাসরি কমে গেছে, যেমন:
• গ্রামীণফোন
• বাটা
• হাইডেলবার্গ সিমেন্ট
• লিন্ডে বাংলাদেশ
কিছু উল্লেখযোগ্য উদাহরণ
• ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর মুনাফা ৬৭% কমেছে
• আরএকে সিরামিক্স বড় লোকসানে পড়েছে
• সিঙ্গার বাংলাদেশ ইতিহাসের বড় ক্ষতির মুখে
• গ্রামীণফোনের মুনাফা প্রায় ১৮.৫% কমেছে
সামগ্রিক কারণ
• বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা
• মুদ্রার অবমূল্যায়ন
• রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা
• মানুষের আয় কমে যাওয়া
এসব কারণে ব্যবসা ও বিনিয়োগে আস্থা কমেছে এবং বাজারের চাহিদা আরও সংকুচিত হয়েছে।
সারসংক্ষেপ
২০২৫ সালে বাংলাদেশের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য বছরটি ছিল চ্যালেঞ্জিং। মূল্যস্ফীতি ও কম চাহিদার কারণে তাদের বিক্রি ও লাভ, দুটিই চাপে পড়েছে, এবং বেশিরভাগ কোম্পানি এখনো সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
Comments