সহকারী শিক্ষিকা বরখাস্ত, নেপথ্যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি
ফরিদপুর সদর উপজেলায় স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের আওতায় শিক্ষার্থীদের টিফিনে বনরুটির সঙ্গে খাওয়ার অনুপযোগী কাঁচা কলা দেওয়ার অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর আগে রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পূর্বখাবাসপুর এলাকার ৯৩ নম্বর শহীদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনাটি ঘটে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ওই শিক্ষিকার নাম গোলাপী বেগম। তবে এই ঘটনায় মূল দায়বদ্ধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে একজন শিক্ষককে 'বলির পাঁঠা' বানানো হয়েছে—এমন অভিযোগে স্থানীয় শিক্ষক সমাজের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে টিফিন হিসেবে বনরুটি ও কলা দেওয়া হয়। কিন্তু সরবরাহ করা কলাগুলো এতটাই কাঁচা ছিল যে তা শিক্ষার্থীদের ভক্ষণের সম্পূর্ণ অনুপযোগী ছিল। এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে।
এ বিষয়ে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক গোলাপী বেগম বলেন, 'ওইদিন প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় আমি দায়িত্ব পালন করছিলাম। খাবারের মান যাচাই বা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আমাদের দেওয়া হয়নি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যেভাবে খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছে, আমি সেভাবেই বিতরণ করেছি। এখানে আমার কোনো ব্যক্তিগত ত্রুটি নেই'।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশলেনা খাতুন শিক্ষিকার পক্ষ নিয়ে বলেন, 'সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যে নিম্নমানের ও কাঁচা কলা দিয়েছে, তা পাঁচ দিন পার হলেও পাকার কোনো লক্ষণ নেই। দোষ মূলত সরবরাহকারীদের, অথচ শাস্তি দেওয়া হলো দায়িত্বরত শিক্ষককে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক'।
অন্যদিকে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা'র পরিচালক মো. জাকির হোসেন দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী খাবার দুই দিন আগেই পৌঁছে দেওয়া হয়। সোমবার বিতরণের কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ এক দিন আগেই তা দিয়ে দেওয়ায় এই বিপত্তি ঘটেছে।
ফরিদপুর শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, 'সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ত্রুটিপূর্ণ খাবার দিলে শিক্ষকের অপরাধ কোথায়? সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়াই একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষককে সাজা দেওয়া হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি'।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন জানান, শিক্ষার্থীদের খাওয়ার অনুপযোগী খাবার দেওয়ার বিষয়টি অসদাচরণের শামিল, তাই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে মানহীন পণ্য সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং সেখান থেকেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Comments