দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ: ১৫০০ আটক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে শেষ হলেও দ্বিতীয় দফাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে চরম উত্তেজনা ও সহিংসতা। আগামীকাল বুধবার দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই দফায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ২ লাখ ২৫ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি পুলিশ এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে আটক করেছে।
ভোটের লড়াই শুরুর আগেই বাগযুদ্ধে মেতেছেন নরেন্দ্র মোদি ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে মোদি ঘোষণা করেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কলকাতার নাম 'সিটি অব জয়' থেকে বদলে 'সিটি অব ফিউচার' রাখা হবে। এমনকি মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি কলকাতা ত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতারা পাল্টা জবাবে কর্মী-সমর্থকদের ৪ মে-র জন্য আগাম 'সবুজ আবির' কিনে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
সহিংসতা রুখতে উত্তর প্রদেশ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা ও 'এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট' অজয় পাল শর্মাকে। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে শাসানোর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল, ডায়মন্ড হারবার ও বীরভূমের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছে।
গত নির্বাচনে এই ১৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল একাই জিতেছিল ১২৮টি, যেখানে বিজেপি পেয়েছিল মাত্র ১৪টি আসন। বিশেষ করে কলকাতা, হাওড়া এবং দুই চব্বিশ পরগনায় তৃণমূলের শক্ত অবস্থান ভাঙা বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। উত্তর চব্বিশ পরগনার মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা ও ব্যারাকপুরে বিজেপি লড়াইয়ের আশা করলেও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় তৃণমূলের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসছে মুসলিমদের নতুন দল আইএসএফ।
ভোটের মাঝেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে ধর্মীয় উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল এই মামলার শুনানির কথা রয়েছে। এছাড়া আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বিরুদ্ধে বিরোধীরা কমিশনে নালিশ দিলেও তা খারিজ হয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে আগামীকাল বুধবার সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হতে যাওয়া এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে পশ্চিমবঙ্গের আগামীর মসনদ কার দখলে যাচ্ছে।
Comments