ফরিদপুরে মা-মেয়েসহ ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যার ৯ ঘণ্টার মধ্যেই ঘাতক আকাশ গ্রেফতার
ফরিদপুরের গদারডাঙ্গীতে দাদি ও ফুপুসহ তিনজনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল ঘাতক আকাশ মোল্লাকে (২৫) মাত্র ৯ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র্যাব। সোমবার রাত ৯টার দিকে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের পর পলাতক ঘাতককে মঙ্গলবার ভোর ৬টাতেই শিকলবন্দী করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে গদারডাঙ্গী গ্রামে কোদালের কোপে আপন দাদি, ফুপু ও এক প্রতিবেশীকে হত্যা করে গা-ঢাকা দেয় ঘাতক আকাশ। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলামের নির্দেশনায় রাতেই অভিযানে নামে জেলা পুলিশের একাধিক টিম। ঘাতক যাতে এলাকা ছেড়ে পালাতে না পারে, সেজন্য পুরো ইউনিয়নজুড়ে তৈরি করা হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়।
গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোর ৬টার দিকে বড় ধরনের সাফল্য আসে। কোতোয়ালি থানা ও র্যাব-১০ এর একটি যৌথ দল আসামির বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে জনৈক লিয়াকতের কলাবাগানে আত্মগোপন করে থাকা অবস্থায় আকাশকে ঘিরে ফেলে। ফলের নয় ঘন্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, "হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ামাত্রই আমরা খুনিকে ধরতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিই। রাতভর চিরুনি অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ভোরে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। আসামি তার বাড়ির অদূরেই একটি কলাবাগানে লুকিয়ে ছিল। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সেই রক্তমাখা কোদালটিও উদ্ধার করা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, আসামির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
বর্বর এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের খবরে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা পুলিশের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন বৃদ্ধা আমেনা বেগম (৭৫), রাহেলা বেগম (৫০) এবং প্রতিবেশী কাবুল (৪৫)। বর্তমানে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রয়েছে।
Comments