নাট্যকর্মী মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শিক্ষক আটক
রাজধানীর বাড্ডা এলাকার একটি বাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও তরুণ নাট্যকর্মী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর (২৬) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ওই বিভাগেরই সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করা হয়েছে।
আজ রবিবার সকাল আটটার দিকে বাড্ডার বাসা থেকে মিমোর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ডিএমপির বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান জানান, মিমো সচরাচর দরজা খোলা রেখে ঘুমালেও আজ ভোরে দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে তাঁকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এসি আসাদুজ্জামান জানান: গত রাত একটার দিকে শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রায় ছয় মিনিট কথা বলেছিলেন মিমো। সুদীপ চক্রবর্তী তাঁর ফোনের কল হিস্ট্রি ডিলিট বা মুছে ফেলেছেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে পুলিশ তাঁকে আটক করেছে। ইতিমধ্যেই মিমোর পরিবার বাড্ডা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছে।
বিভাগীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে মিমো একটি চিরকুট লিখে গেছেন। সেই চিরকুটে সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী ছাড়াও তাঁর সহপাঠী উম্মে হানির নাম উল্লেখ রয়েছে। চিরকুটে লেখা ছিল: "সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া।"
থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন কাজী তামান্না হক এই চিরকুটের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "আমরা দুজনের নাম পাওয়ার বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি বিস্তারিত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।"
একজন প্রতিশ্রুতিশীল নাট্যকর্মী ও নির্দেশক হিসেবে মিমোর পরিচিতি ছিল। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে বিভাগীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নাট্যাঙ্গনে শোক নেমে এসেছে। বিভাগের চেয়ারপারসন এক শোকবার্তায় বলেন, "এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছে না। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।"
Comments