সোমবার যশোর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
যশোরের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। আগামীকাল সোমবার জেলা সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর এটিই তাঁর প্রথম যশোর সফর। এই সফরকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে শার্শা উপজেলাসহ পুরো জেলাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ ও সাজ সাজ রব বিরাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ শার্শার উলাসী-যদুনাথপুর এলাকার ঐতিহাসিক খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন। প্রায় পাঁচ দশক আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্থানীয় কৃষকদের সেচ সুবিধা দিতে নিজ হাতে এই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। দীর্ঘ সময় অবহেলিত থাকায় মৃতপ্রায় এই খালটি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে পুনরায় প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের কৃষি ও জীবিকায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মুখে আগামীকাল ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে ঘিরে স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি উঠে এসেছে: বিদ্যমান করোনারি কেয়ার ইউনিটকে একটি আধুনিক কার্ডিয়াক চিকিৎসা কেন্দ্রে রূপান্তর। যশোর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণ। নওয়াপাড়া নৌ-বন্দরের নাব্যতা সংকট নিরসন এবং যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা। সরকারি এমএম কলেজে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম প্রতিষ্ঠা।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বিকেলে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি। এর আগে তিনি ঐতিহাসিক যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে যশোরের থমকে যাওয়া উন্নয়নের চাকা আবারও সচল হবে।" জেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে যশোরবাসী তাদের ন্যায্য অধিকার ও দীর্ঘদিনের দাবিগুলো পূরণের পথ খুঁজে পাবে।
Comments