শুধু আইনে নির্যাতন বন্ধ হবে না, প্রয়োজন সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন: আইনমন্ত্রী
দেশে নির্যাতনের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে হলে কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, বরং সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, নির্যাতন একটি অমানবিক ও অগ্রহণযোগ্য কাজ—এই বোধটি সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত 'নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ইউএনসিএটি ও ওপিসিএটি বাস্তবায়ন বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায়' প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সংবিধানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন: অনুচ্ছেদ ৩৫(৫): আমাদের সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তিকে নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া যাবে না। এই বিধান মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র ও আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী সম্মেলনের নীতিরই প্রতিফলন, যা রাষ্ট্র ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর একটি আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।
মন্ত্রী দাবি করেন, ৫ আগস্টের ক্ষমতার পালাবদলের পর দেশে হেফাজতে নির্যাতনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা জাতীয় বিবেকের ক্ষেত্রে এক বড় অগ্রগতি। তিনি আরও বলেন:
"আমরা দায়মুক্তির সংস্কৃতি চাই না। আমরা কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন, হেফাজতে মৃত্যু, জোরপূর্বক গুম কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চাই না। এই ধরনের লঙ্ঘন যে কী পরিমাণ যন্ত্রণাদায়ক, তা আমরা উপলব্ধি করি।"
আইন সুরক্ষায় সরকার যেমন কাজ করছে, তেমনি সুরক্ষা আইনের যেন কোনো অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়েও দৃঢ় নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে আমাদের ভালো আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে।
Comments