তনু হত্যাকাণ্ড: ৩ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক সেনা কর্মকর্তা
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১০ বছর পর এই প্রথম কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়া হলো। সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আব্দুল্লাহ আমান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, তনুর ব্যবহৃত কাপড় থেকে যে তিনজন পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল আগেই সংগ্রহ করা হয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমানে গ্রেপ্তার হওয়া হাফিজুর রহমানসহ সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ক্রস ম্যাচিং করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ওপরই মামলার ভবিষ্যৎ এবং খুনি শনাক্তের বিষয়টি নির্ভর করছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে একটি জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে থানা পুলিশ, এরপর ডিবি এবং দীর্ঘ সময় সিআইডি তদন্ত করলেও কোনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআই-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ স্থবিরতার পর গত ৬ এপ্রিল আদালত সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। এই তিনজনই বর্তমানে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গিয়েছেন। হাফিজুর রহমান এই তিনজনেরই একজন।
পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম এই মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছর তিনি সেনানিবাস এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন।
২০১৬ সালের আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডটি এক সময় দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল। দীর্ঘ ১০ বছর পর কোনো আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া এবং ডিএনএ ম্যাচিংয়ের উদ্যোগে তনুর পরিবার ও বিচারপ্রত্যাশীদের মনে নতুন করে ন্যায়বিচারের আশা সঞ্চার হয়েছে।
Comments