অবশেষে দেড় মাসের সন্তানসহ কারামুক্ত যুব মহিলা লীগ নেত্রী
বিস্ফোরক আইনের মামলায় দেড় মাসের শিশু সন্তানসহ গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম কারামুক্ত হয়েছেন। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোছা. কাওয়ালিন নাহার গণমাধ্যমকে শিল্পী বেগমের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান তার জামিন মঞ্জুর করেন। বুধবার সকালে জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। শিল্পী বেগমকে গ্রহণ করতে সকাল থেকেই কারাগারের ফটকে তার পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সন্ধ্যায় তেজগাঁও রেলওয়ে কলোনি এলাকার নিজ বাসা থেকে শিল্পী বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি মানবিক দিক বিবেচনায় জামিন প্রার্থনা করে বলেন, "আসামির মাত্র ১ মাস ১৬ দিনের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। শিল্পী বেগম নিজেও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের কারণে অসুস্থ এবং তার বাম হাতটি ভাঙা। এই অবস্থায় দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে কারাগারে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।"
প্রথম দফার শুনানিতে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন। তবে রাতে উচ্চতর আদালতে বিশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে তার জামিন মঞ্জুর হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ, গত ২৩ জুলাই শিল্পী বেগমের নির্দেশে একদল সশস্ত্র লোক তাদের বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
কারাগারে যাওয়ার আগে আদালত প্রাঙ্গণে শিল্পী বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি তার শারীরিক অসুস্থতা এবং সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন, রাজনীতির কারণে তার কোলের শিশুকে নিয়ে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তার স্বামী রহিম হোসেন সোহাগও মেয়ের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত এক রাত কারাভোগের পর তিনি মুক্তি পেলেন।
Comments