ট্রাম্পের ‘লাগামহীন’ মন্তব্যে ইরান আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা
ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা যখন একটি বড় সফলতার দ্বারপ্রান্তে ছিল, ঠিক তখনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অপেশাদার আচরণে সব ভণ্ডুল হতে বসেছে বলে জানিয়েছেন তাঁরই ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পর্শকাতর এই আলোচনার খুঁটিনাটি নিয়ে জনসমক্ষে ট্রাম্পের ভুল ও আগাম দাবি তেহরানের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।
গত শুক্রবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনার পয়েন্টগুলো তখনো চূড়ান্ত হয়নি। ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই ইরানি কর্মকর্তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন, যা ওয়াশিংটনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে সংকটে ফেলেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের তথ্যের বড় ধরনের অমিল পাওয়া গেছে। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে নিরাপত্তার কারণে জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান সফরে যাবেন না। অথচ পরে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করে যে ভ্যান্সই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। সোমবার ট্রাম্প দাবি করেন ভ্যান্স ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন, অথচ তখনো তিনি ওয়াশিংটনেই ছিলেন। তেহরান আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার আগেই ট্রাম্প দাবি করেন, "আজকের মধ্যেই চুক্তি হয়ে যাবে।"
এই সমালোচনার জবাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ট্রাম্পের পক্ষ নিয়ে বলেন: "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অসাধারণ আলোচনার দক্ষতার কারণেই আমরা ইরানের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি। যারা তাঁর কৌশল বুঝতে পারছেন না, তারা হয় বোকা, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে সত্য এড়িয়ে যাচ্ছেন।"
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রতিদিন তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ডজনখানেক পোস্ট করে এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপের মাধ্যমে কূটনৈতিক গোপনীয়তা ভঙ্গ করছেন। এমনকি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ নিয়েও তিনি ভুল তথ্য দিয়েছেন, যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানকে দুর্বল করছে।
Comments