প্রশ্নফাঁস হয়নি, কঠোর নজরদারিতেই চলবে পরবর্তী পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী
সারাদেশে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা শেষে আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দাবি করেন, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেনি এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও এই কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
মন্ত্রী জানান, এবারের পরীক্ষায় মাঠ পর্যায়ে এক অভূতপূর্ব শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। তিনি বলেন: শিক্ষার্থীরা কোনো রকম মানসিক চাপ ছাড়াই অত্যন্ত উৎসবমুখর ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের জন্য পানীয় জল ও হালকা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কেন্দ্র সচিবরা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নিজ কক্ষে বসেই সরাসরি পরীক্ষা মনিটরিং করছেন। ভবিষ্যতে যেকোনো অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্নফাঁসের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গুজব বা অনিয়ম ঠেকাতে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তথ্য ইতোমধ্যে সাইবার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"
দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে মন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানান, কোনো শিক্ষার্থী যেন অযথা আতঙ্কিত না হয়, সে জন্য শিক্ষক ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে মানবিক আচরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কিছু জায়গায় অ্যাডমিট কার্ড দিতে দেরি হলেও কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষার বাইরে থাকেনি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করেন:
পিএসসি ও জেএসসি এই দুই পরীক্ষা পুনরায় চালুর কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ এর আগে এই পদ্ধতিতে অংশীজনদের অনেক আপত্তি ছিল। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কারিকুলাম সংস্কারের কাজ চলছে। মন্ত্রী নিজে এটি তদারকি করছেন এবং দ্রুতই এর অগ্রগতি জানানো হবে।
মন্ত্রী জানান, বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে তিনি আগে থেকে না জানিয়েই কেন্দ্র পরিদর্শন করছেন। এর মাধ্যমে তিনি বাথরুম সংকটসহ বিভিন্ন বাস্তব সমস্যাগুলো নিজে দেখে তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছেন।
Comments