৯ ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচনে সরকারের কঠোর নির্দেশনা
চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে ৯টি বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। গত ৯ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই পরিপত্র জারি করা হয়, যা আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিম্নলিখিত খাতগুলোতে কাটছাঁট করা হয়েছে।
১. জ্বালানি তেল: সরকারি গাড়িতে মাসিক বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
২. গাড়ি ও বিদেশ ভ্রমণ: কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ে সুদমুক্ত ঋণ এবং সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে।
৩. অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ: প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
৪. আপ্যায়ন ও সেমিনার: সভা-সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ কমাতে হবে।
৫. ভ্রমণ ভাতা: সরকারি কর্মকর্তাদের ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
৬. কেনাকাটা: নতুন গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার কেনা শতভাগ (সম্পূর্ণ) বন্ধ থাকবে।
৭. ইউটিলিটি সেবা: অফিসগুলোতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
৮. ভবন শোভাবর্ধন: আবাসিক ভবনের শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।
৯. ভূমি অধিগ্রহণ: ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ বরাদ্দ ব্যয় শতভাগ হ্রাস করা হয়েছে।
বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে তেল, গ্যাস ও সারের ক্রমবর্ধমান দাম এবং অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে এই সাশ্রয়ী কৌশল নিয়েছে সরকার। এর আগে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অফিসের সময়সীমা কমানো এবং দোকানপাট দ্রুত বন্ধের সিদ্ধান্তও কার্যকর করা হয়েছিল।
Comments