মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: ঝুঁকিতে দেশের শ্রমবাজার, কমতে পারে রেমিট্যান্স প্রবাহ
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে। হামলা-পাল্টাহামলায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণহানির পাশাপাশি হাজার হাজার কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের বৈদেশিক আয়ে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশ থেকে বর্তমানে নিয়মিত বিরতিতে কফিনবন্দি হয়ে ফিরছে প্রবাসীদের নিথর দেহ। যারা বেঁচে আছেন, তাদের দিন কাটছে চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায়। অনেকে কর্মস্থল হারিয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসছেন।
কুয়েত থেকে এক প্রবাসী তাদের বর্তমান অবস্থার বর্ণনা দিয়ে বলেন: "গত কয়েকদিন ধরে মোবাইলে অনবরত জরুরি অ্যালার্ম আর সাইরেন বাজছে। আমরা যারা জীবিকার প্রয়োজনে এখানে আছি, তারা প্রচণ্ড আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।"
যুদ্ধকবলিত দেশগুলোতে সংঘাত সংক্রান্ত কোনো পোস্ট বা মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই আইন লঙ্ঘনের দায়ে অনেক বাংলাদেশি জেল-জরিমানার মুখে পড়ছেন, যা প্রবাসীদের মধ্যে বাড়তি আতঙ্ক তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনাই এখন সরকারের মূল অগ্রাধিকার।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, প্রবাসীদের ভিসার জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ইতিমধ্যে কিছু দেশে ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়ানো হয়েছে এবং অন্যান্য দেশেও এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান মনে করেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বড় ধরনের সংকটে পড়বে। তিনি বলেন, যারা কাজ হারিয়ে দেশে ফিরছেন, তাদের দ্রুত পুনর্বাসনে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।
Comments