জ্বালানি সংকটে স্বস্তি: মালয়েশিয়া থেকে এলো ২৬ হাজার টন অকটেন
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট কাটাতে সুখবর পেলেন দেশের মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি মালিকরা। বিকল্প উৎস হিসেবে মালয়েশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে জাহাজ 'এমটি সেন্ট্রাল স্টার'। একই সময়ে ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে আরও একটি জাহাজ বন্দরে আসায় জ্বালানি খাতে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। এর প্রভাবে বাংলাদেশের বাজারেও তীব্র সংকট দেখা দেয়। গত মার্চ মাসে নির্ধারিত সাতটি জ্বালানিবাহী জাহাজ বাংলাদেশে না আসায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল।
বিপিসির তথ্যমতে, সংকটের কারণে মার্চে প্রতিদিনের গড় অকটেন বিক্রি ১,২২২ টন থেকে কমে এপ্রিলে ১,১১৪ টনে নেমে আসে। ফলে অনেক পাম্পে 'অকটেন নেই' সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে।
দেশে উচ্চ সিসির মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের প্রধান জ্বালানি হিসেবে অকটেন ব্যবহৃত হয়। ইঞ্জিনের সুরক্ষা ও ভালো পারফরম্যান্সের জন্য এটি অপরিহার্য। বিপিসি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এখন সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো থেকে তেল আমদানিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। মালয়েশিয়া থেকে আসা এই চালানটি সেই কৌশলেরই অংশ।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম জানিয়েছেন, ২৬ হাজার টন অকটেনের এই চালানটি দ্রুত খালাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া চলতি মাসে ডিজেলের চাহিদা মেটাতে আরও সোয়া ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানির উৎস বহুমুখী করার এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
Comments