আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকে আবেদন
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং তাঁর একান্ত সচিব (পিএস) শামসুদ্দিন মাসুমের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের দাবিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল, ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সারোয়ার হোসেন দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের বরাবর এই আবেদন দাখিল করেন।
আবেদনে গত ৩ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। 'আসিফ নজরুলের সময়ে আইন মন্ত্রণালয়: ৮ মাসে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে ঘুষ লেনদেন শতকোটি' শীর্ষক ওই প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, আইন মন্ত্রণালয়ে গত আট মাসে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম হয়েছে।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অক্টোবর ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়। এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে পছন্দের কর্মস্থল বেছে নিয়েছেন।
বদলির ক্ষেত্রে 'এ', 'বি' ও 'সি' গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে ছয়-সাত মাসের মধ্যে একই কর্মকর্তাকে তিন-চারবার বদলি করার নজির দেখা গেছে। ঘুষের প্রতিশ্রুত টাকা পরিশোধ না করায় জারি করা বদলির আদেশ স্থগিত করারও প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়েছে আবেদনে।
আবেদনে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে, তৎকালীন আইন উপদেষ্টার পিএস শামসুদ্দিন মাসুম এই বিপুল পরিমাণ ঘুষ লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছেন।
আইনজীবী এম সারোয়ার হোসেন তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন যে, অতীতে কখনও এত অল্প সময়ে এত বিপুলসংখ্যক সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ঘটনা ঘটেনি। এই প্রক্রিয়ায় যে শতকোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসিফ নজরুল ও তাঁর পিএস-এর অবৈধ সম্পদের উৎস খুঁজে বের করতে দুদকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
Comments