ইসলামাবাদ বৈঠকের আগে ইরানের ১০ শর্ত: ট্রাম্পের নমনীয় অবস্থান
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা নিরসনে ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ১০ দফা শান্তি প্রস্তাব নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা 'ফার্স'-এর দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনাটি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল, ২০২৬) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য বহুপাক্ষিক বৈঠকে এই দাবিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ১০ দফার লক্ষ্য কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে আমূল পরিবর্তন আনা।
ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফার বিস্তারিত:
১. পারমাণবিক অঙ্গীকার: ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি। ২. আগ্রাসন বন্ধ: ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব ধরনের সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ করা। ৩. মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধরত বাহিনী প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক কোনো ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা না করার নিশ্চয়তা। ৪. হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ: 'সেফ প্যাসেজ প্রটোকল' অনুযায়ী দুই সপ্তাহের জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি, যা ইরানের তদারকিতে পরিচালিত হবে। ৫. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানের ওপর আরোপিত জাতিসংঘসহ যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। ৬. ক্ষতিপূরণ তহবিল: যুদ্ধের ফলে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে একটি বিশেষ বিনিয়োগ ও আর্থিক তহবিল গঠন। ৭. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ: ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নিয়ে নতুন সমঝোতা। ৮. আঞ্চলিক শান্তিচুক্তি: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক শান্তিচুক্তি স্থাপনের পথ প্রশস্ত করা। ৯. প্রতিরোধ গোষ্ঠীর নিরাপত্তা: এই অঞ্চলের সব প্রতিরোধকামী সংগঠনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার নীতি গ্রহণ। ১০. জাতিসংঘের স্বীকৃতি: সব অঙ্গীকার ও চুক্তিকে জাতিসংঘের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনি বৈধতা দেওয়া।
সূত্রমতে, ইরান এই প্রস্তাবে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি এবং জব্দকৃত সম্পদ ফেরতের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর শর্তারোপ করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১০ এপ্রিলের ইসলামাবাদ বৈঠকই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্য কি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথে হাঁটবে নাকি এই ১০ দফার কোনো কোনো শর্তে হোঁচট খেয়ে ফের অস্থিরতা শুরু হবে।
Comments