কমলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: দ্বিতীয় প্রান্তিকে মাত্র ৩.০৩%
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩.০৩ শতাংশে,যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩.৫৩ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর প্রাথমিক তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। মূলত: শিল্প খাতে তীব্র ধসই সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে নিচে নামিয়েছে।
অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.২৭ শতাংশে,যা এক বছর আগে ছিল ৫.৭৮ শতাংশ। এটি করোনা মহামারির সময় ২০২০-২১ অর্থবছরের পর সবচেয়ে ধীর দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রবৃদ্ধি।
অর্থবছরের শুরুতে প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল সংশোধিত হিসাবে ৪.৯৬ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩.৯১ শতাংশ। ফলে বছরের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসার প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।
বর্তমান মূল্যে অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে অর্থনীতির আকার দাঁড়িয়েছে ১৫,১৭,৬১৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৩,৯০,১৪৭ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দুর্বল রপ্তানি, জ্বালানি সংকট এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত পাল্টা শুল্ক বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহে প্রভাব ফেলায় রপ্তানিমুখী শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। ঘনঘন বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি নির্ভর শিল্পে।
তবে কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এ খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৬৮ শতাংশে,যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১.৯০ শতাংশ। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আমন ধানের ভালো ফলন এ প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করেছে।
সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে,যদিও সাধারণত এই খাতে প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের ওপরে থাকে। দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সেবা খাতের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তথ্য অনুযায়ী,দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবাসী আয় প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ৮.৬৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্বব্যাপী প্রভাবও অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে। বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রবৃদ্ধি ৪.৯ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি উন্নয়ন ব্যয় (এডিপি) কমে যাওয়া এবং বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা অর্থনীতির গতি কমিয়ে দিয়েছে।
Comments