সন্তান হারানোর শোকে তিনদিন মৃত শাবকের পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে!
মাতৃস্নেহ আর শোকের ভাষা পৃথিবীর সব প্রাণীর জন্যই এক ও অভিন্ন। ঘোলা জলের এক অগভীর ডোবা। তাতে নিথর পড়ে আছে একটি ছোট্ট হাতি শাবকের দেহ। আর সেই মরদেহের পাশে গত তিন দিন ধরে শোকাতুর হৃদয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে তার মা ও বাবা। সন্তানের শোকে পাথর হয়ে গেছে বনের এই বিশালদেহী প্রাণী দুটি। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বটতলা মুসলিমপাড়া এলাকায় ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে অশ্রুসিক্ত হচ্ছেন স্থানীয় মানুষ ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
গত মঙ্গলবার থেকে এলাকার একটি টিলার পাদদেশে এই করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত তিন দিনে একটি মুহূর্তের জন্যও মৃত সন্তানকে একা রেখে যায়নি এই হাতি দম্পতি। বাবা হাতিটি রাতের আঁধারে বনের গভীরে গিয়ে সামান্য খাবার খেয়েই আবার ফিরে আসছে সন্তানের কাছে। এরপর মা হাতিটিও কিছুক্ষণের জন্য আহার সেরে দ্রুত ফিরে আসছে তার নিথর শাবকটির পাশে। মা হাতিটি ডোবার জলে অর্ধেক শরীর ডুবিয়ে অপলক তাকিয়ে আছে তার সন্তানের দিকে। গভীর বনের এই অবুঝ প্রাণীর এমন মানবিক শোক দেখে স্তব্ধ হয়ে গেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
নাইক্ষ্যংছড়ি-ঘুমধুম সড়কের বটতলা মুসলিমপাড়া এলাকাটি কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের অধীনে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মিলন তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ধারণা করা হচ্ছে অসুস্থতার কারণে মায়ের দুধ পান করতে না পেরে আনুমানিক ৬-৭ মাস বয়সী শাবকটি মারা গেছে। অন্যদিকে, সহকারী বন সংরক্ষক মনিরুল ইসলামের মতে, মিয়ানমারে যাওয়ার পথে পাহাড়ের টিলা থেকে ডোবায় পড়ে গিয়েও শাবকটির মৃত্যু হতে পারে।
এই শোকাতুর পরিবেশে এখনই কোনো হস্তক্ষেপ করতে চাইছে না বন বিভাগ। নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন:
"ওরা এখন ভীষণ শোকে কাতর। এই মুহূর্তে আমরা ওদের বিরক্ত করতে চাই না। সন্তানের বিয়োগব্যথা ওদের হৃদয়ে কতটা গভীর হতে পারে, তা এই দৃশ্য না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। ওদের শোকের ধকল না কমা পর্যন্ত আমরা কোনো পদক্ষেপ নেব না।"
বন বিভাগের লোকজন দূর থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শোকের এই মানসিক অভিঘাত কাটিয়ে হাতি দুটি যখন নিজে থেকেই সরে যাবে, তখনই কেবল শাবকের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হবে।
Comments