চাঁদপুরে নির্জনে জাটকার হাট: এক মাস পর প্রশাসনের ঝটিকা অভিযানে আড়ত উচ্ছেদ
দ
মেঘনার দুর্গম চরে লোকচক্ষুর আড়ালে দীর্ঘ এক মাস ধরে চলছিল জাটকা বিক্রির রমরমা আসর। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে কৌশলে গড়ে তোলা হয়েছিল অবৈধ মাছের আড়ত। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেই সিন্ডিকেটের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে হাইমচর উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জাটকা রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চললেও হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ও আমতলী অভয়াশ্রম সংলগ্ন এলাকাগুলোতে কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় ছিল। বিশেষ করে চরভৈরবী ইউনিয়নের 'খুইশার মোড়' সংলগ্ন নির্জন স্থানটিকে বেছে নিয়েছিল তারা। দিনের আলোতে নির্জন মনে হলেও গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সেখানে বসতো জাটকা কেনাবেচার বড় হাট। প্রশাসনের গোয়েন্দা জালে বিষয়টি ধরা পড়ার পর শুরু হয় উচ্ছেদ প্রস্তুতি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায়ের দিকনির্দেশনায় এক ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এ.বি.এম. আশরাফুল হকের নেতৃত্বে মৎস্য অধিদপ্তর ও কোস্টগার্ডের একটি যৌথ দল খুইশার মোড়ের সেই গোপন আড়তে হানা দেয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ধুরন্ধর কারবারিরা নৌকাযোগে গভীর নদীতে পালিয়ে যায়, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে আড়তটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়ে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযান শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১,৫০,০০০ (দেড় লক্ষ) মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।১০০ কেজি জাটকা ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উদ্ধার করা হয়েছে।অন্যান্য মাছ ধরার সরঞ্জামসহ বেশ কিছু নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ জাল কোস্টগার্ডের নয়ানী আউটপোস্ট এলাকায় জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া উদ্ধারকৃত মাছগুলো স্থানীয় এতিমখানা ও অসহায় দুস্থদের মাঝে বিতরণ করে দেওয়া হয়।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এ.বি.এম. আশরাফুল হক জানান, "নির্জন এলাকায় আড়ত বসিয়ে জাটকা কেনাবেচার খবর আমাদের কাছে ছিল। আমরা সফলভাবে আড়তটি উচ্ছেদ করেছি। চক্রটির মূল হোতাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। জাটকা রক্ষায় আমাদের এই 'জিরো টলারেন্স' নীতি অব্যাহত থাকবে।"
অভিযানে কোস্টগার্ডের বিসিজি পেটি অফিসার নাছির উদ্দিন এবং মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী ইজাজ মাহমুদসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, এই অভিযান আরও আগে হওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে দেরিতে হলেও আড়ত উচ্ছেদের ফলে জাটকা নিধনকারী সিন্ডিকেট কিছুটা হলেও দুর্বল হবে। জাটকা রক্ষায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে মাছ ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ, আর এই সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছে সচেতন মহল।
Comments