সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ ইস্যুতে বিরোধী দলের ওয়াকআউট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে আজ বুধবার (১ এপ্রিল) এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াত এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।
অধিবেশন শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারি দলের সাথে মতপার্থক্য তৈরি হলে বিরোধীরা সংসদ ত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নেন।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আজকের ওয়াকআউটের পেছনে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট কারণ তুলে ধরা হয়েছে: বিরোধীদের অভিযোগ, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং এ সংক্রান্ত আলোচনা নিষ্পত্তি করার বিষয়ে সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হওয়াকে তারা 'অগ্রহণযোগ্য' বলে দাবি করেন। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে উত্থাপিত একটি মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনার বিষয়ে সরকারি দল ও স্পিকারের সাথে একমত হতে না পারায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অধিবেশনে 'জুলাই সনদ' ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। বিরোধীরা মনে করছেন, এই ইস্যুতে যথাযথ সম্মান বা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংসদ ব্যর্থ হচ্ছে।
আজকের এই ওয়াকআউটটি বর্তমান সংসদের জন্য নতুন নয়। এর আগে গত ১২ মার্চ অধিবেশনের প্রথম দিনেও রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দল সংসদ ত্যাগ করেছিল। সে সময় তারা 'জুলাইয়ের সাথে বেইমানি নয়' স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজকের ৫ মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রতীকী ওয়াকআউট (৫:৪০ - ৫:৪৫ মি.) সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। এর ফলে সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ অবশ্য পরে অধিবেশনের কার্যক্রম চালিয়ে যান এবং সংসদীয় রীতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।
Comments