খাবার বিতরণে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া কমাবে
ক্লাসরুমে এখন শুধু পড়াশোনাই নয়, টিফিনের সময়টাও হয়ে উঠছে আনন্দমুখর। চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিম, দুধ, কলা ও পাউরুটির মতো পুষ্টিকর খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। সরকারের 'স্কুল ফিডিং কর্মসূচি'র আওতায় এ উদ্যোগ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (২৯ মার্চ) উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হয়। এ সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে খাবার তুলে দেন।
অভিভাবক ফাতেমা, নাজু বেগম ও শাহজাহান বলেন, এই প্রকল্প শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তবে খাবারের মান যেন সবসময় ভালো থাকে এবং নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি তারা বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান।
এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এনজিও প্রত্যাশী। সংস্থাটির চাঁদপুর জেলা সমন্বয়কারী সুমন কান্তি নাথ বলেন, শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের গুণগত মান ঠিক রাখতে উৎপাদন থেকে সরবরাহ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মাজহারুল হুদা বলেন, "শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টিকর খাবারের কোনো বিকল্প নেই। কোনো শিশু যেন পুষ্টিহীনতায় না ভোগে এবং আনন্দের সঙ্গে বিদ্যালয়ে আসে—সেই লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এটি শতভাগ প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।"
তিনি জানান, হাইমচর উপজেলার ৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৮ হাজার ৫৬৭ জন শিক্ষার্থীর মাঝে নিয়মিত এই পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় বলেন, সরকারের এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বাড়বে এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
Comments