ইতালিতে মেলোনি সরকারের বড় পরাজয়: বিচারব্যবস্থা সংস্কারে জনগণের ‘না’
ইতালির বিচারব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে আয়োজিত বহুল আলোচিত গণভোটে (রেফারেন্ডাম) বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার। সংস্কারের বিপক্ষে 'না' ভোটের জয় জয়কার হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে মেলোনি সরকার এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো একে মেলোনির জন্য 'গুরুতর ধাক্কা' হিসেবে বর্ণনা করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলছে, এই পরাজয় মেলোনিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
গণভোটের ফলাফল ঘোষণার পর রাজধানী রোমসহ মিলান, তুরিন, নেপলস, ফ্লোরেন্স এবং পেরুজিয়ার মতো বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। হাতে বানানো পোস্টার, ব্যানার এবং ধোঁয়ার ফ্লেয়ার নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে আনন্দ মিছিল করে সাধারণ নাগরিকরা।
মিছিলে আন্দোলনকারীদের অনেকের হাতেই ছিল প্রধানমন্ত্রী মেলোনির পদত্যাগ দাবি করা পোস্টার। রোমান উপভাষায় লেখা একটি পোস্টারে দেখা যায়— "Amo vinto, ate perso, dimissioni" (আমরা জিতেছি, তোমরা হেরেছ, পদত্যাগ করো)। আবার অনেকে ইংরেজিতে লিখেছেন, "Meloni, go home"। কিছু পোস্টারে ব্যঙ্গাত্মকভাবে লেখা ছিল— "গণতন্ত্র ১, মেলোনি ০"।
রোমের পিয়াজা দেল পোপোলোতে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে পিডি (PD) নেত্রী এলি শ্লেইন বলেন, "যখন ভোটার উপস্থিতি ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, তখন সেখানে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা থাকে। প্রধানমন্ত্রী মেলোনির উচিত এটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা। তারা নিজেদের প্রাসাদের ভেতরে আটকে রেখেছেন, অথচ ইতালিয়ানদের প্রকৃত অগ্রাধিকার হলো সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানির দাম কমানো।" তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, সাধারণ শ্রমিকদের সঠিক মূল্যায়ন না হলে এই আন্দোলন রাজপথ ছাড়বে না।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা জুসেপ্পে কন্তেও এই মিছিলে অংশ নেন। গণভোটের ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই রায় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির জন্য একটি "উচ্ছেদের নোটিশ"-এর মতো। তবে কৌশলগত কারণে তিনি এই মুহূর্তে মেলোনির পদত্যাগ দাবি না করলেও জানান যে, এই ফলাফল সরকার জোটের ভেতরে ফাটল ধরাতে পারে এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনবে।
এদিকে বারবার পদত্যাগের দাবি উঠলেও প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তার সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি কোনোভাবেই পদত্যাগ করার কথা ভাবছেন না। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনগণের এই বিপুল প্রত্যাখ্যানের পর সরকার পরিচালনা মেলোনির জন্য এখন অগ্নিপরীক্ষার সমান।
Comments