হরমুজে নিরাপদ নৌ চলাচলে ২২ দেশের জোট, যুক্ত হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন
পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পশ্চিমা দেশগুলোর নেতৃত্বে গঠিত জোটে যোগ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। এ নিয়ে মোট ২২টি দেশ এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে। খবর ইউরঅ্যাক্টিভের
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল ও সমুদ্রপথে পরিবাহিত গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।
এই ঘটনায় প্রথমে বৃহস্পতিবার যৌথ বিবৃতি দেয় ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান। এতে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালির 'কার্যত বন্ধ' করে দেওয়ার নিন্দা জানানো হয়।
পরবর্তীতে এতে সমর্থন দেয় কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, লাটভিয়া, স্লোভেনিয়া, এস্তোনিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, রোমানিয়া, লিথুয়ানিয়া ও অস্ট্রেলিয়া।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, উপসাগরে নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এতে আরও বলা হয়, ইরানের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়বে।
দেশগুলো জানিয়েছে, তারা নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে যথাযথ উদ্যোগে অংশ নেবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। একই সঙ্গে সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, তারা সেনা পাঠাতে অনাগ্রহ দেখিয়ে 'ভীরুতা' প্রদর্শন করছে।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি এবং সামরিক অভিযান ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী অন্যান্য দেশগুলোকেই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে—যুক্তরাষ্ট্র নয়।
Comments