রাষ্ট্র হিসেবে থাকাই ইরানের বিজয়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের প্রকৃত চিত্র নিয়ে মার্কিন জনগণের কাছে পুরো সত্য তুলে ধরছেন না, এমন অভিযোগ উঠছে বিশ্লেষকদের কাছ থেকে। তিনি যুদ্ধকে "একটি অভিযান" বলে উল্লেখ করেছেন, যা ভাষা ব্যবহার করে বাস্তবতা আড়াল করার প্রবণতার দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য স্পষ্ট ও সীমিত রাখা হতো, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন এতটা চাপে পড়ত না। তবে প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং দেশটির অর্থনৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তাদের মতে, দুর্বল হয়ে পড়া ইরান মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করতে পারে এবং এটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা যেতে পারে। কিন্তু সমালোচকদের আশঙ্কা, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই যদি ট্রাম্প বিজয় ঘোষণা করেন, তাহলে বাস্তব পরিস্থিতি উপেক্ষা করা হবে-যা অতীতেও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাতে উভয় পক্ষই শেষ পর্যন্ত নিজেদের বিজয়ী দাবি করতে পারে। কারণ ইরানের ধর্মতান্ত্রিক সরকার সামরিকভাবে দুর্বল হলেও পুরোপুরি পরাজিত না হলে তারা এটিকে নিজেদের টিকে থাকার সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলি শাবানি বলেন, ইরানের নেতৃত্ব জানে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক বিজয় অর্জন করতে পারবে না। তবে তাদের জন্য "বিজয়" মানে হতে পারে -রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকা।
ইতিহাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই প্রযুক্তিগত ও সামরিক শক্তিতে দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। কিন্তু এসব প্রতিপক্ষ অনেক সময় গেরিলা কৌশল, স্থানীয় ভৌগোলিক সুবিধা ও দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধের মাধ্যমে শক্তিশালী বাহিনীকে বিপাকে ফেলেছে।
উদাহরণ হিসেবে বিশ্লেষকরা ভিয়েতনামযুদ্ধ, আফগান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানও একই ধরনের কৌশল নিতে পারে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে হামলা, পারস্য উপসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ, কিংবা মিত্র গোষ্ঠী যেমন: হেজবুল্লাহ ও হামাস-কে সক্রিয় করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সামনে বড়ো প্রশ্ন হলো-তিনি কি আংশিক বা বিতর্কিত 'বিজয়' ঘোষণা করে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসবেন, নাকি যুক্তরাষ্ট্র আরও গভীরভাবে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে?
সূত্র: সিএনএন
Comments