বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ৫ ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধের আশঙ্কার প্রভাব বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে পড়তে শুরু করেছে। সম্ভাব্য গ্যাস সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় দেশের ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে পাঁচটিই সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি, চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড, যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড এবং বেসরকারি কর্ণফুলি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)। এর মধ্যে আশুগঞ্জ কারখানাটি কয়েক মাস ধরেই উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাঁচটি ইউরিয়া কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। তবে আগে থেকেই অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহের কারণে এসব কারখানা সমস্যার মুখে ছিল।
বর্তমানে দেশে বোরো মৌসুমে ধান চাষ চলছে, যা দেশের বার্ষিক প্রায় ৪০ মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি জোগান দেয়। এই সময়ে ইউরিয়া সারের চাহিদা বেশি থাকে।
বাংলাদেশের বছরে প্রায় ২৬ লাখ টন ইউরিয়া সারের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ দেশে উৎপাদিত হয় এবং বাকিটা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কাছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার টন ইউরিয়া মজুত রয়েছে, যা চলতি বোরো মৌসুমের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট।
এ মুহূর্তে বোরো চাষের জন্য সারের কোনো ঘাটতি না হলেও আপাতত ১৫ দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর দৈনিক মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৭,১০০ টন। ফলে এই সময়ে এক লাখ টনের বেশি ইউরিয়া উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল ১০ লাখ টন। তবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৫০ হাজার টন। বাকি সময়ের মধ্যে লক্ষ্য পূরণ করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে শুধু শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানাটি চালু রয়েছে, যদিও সেটিও কতদিন চালু রাখা যাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশে প্রতিদিন প্রায় ২,৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে পূরণ করা হয়, কারণ দেশীয় উৎপাদন ক্রমেই কমছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের জ্বালানি ও সার সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প আমদানি উৎস খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
Comments