ইতালিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। একুশের প্রথম প্রহরে দূতাবাস প্রাঙ্গণে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এটিএম রকিবুল হক। এ সময় দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
এসময় ইতালি বিএনপিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকেও শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রদূত এটিএম রকিবুল হক বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল না, এটি ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় ও আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই আমাদের স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল'। তিনি প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরে বেলা ১১টায় দূতাবাসের হলরুমে এক আলোচনা সভা হয়। সভায় ইতালি বিএনপির নেতাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক বহুত্ব রক্ষার প্রতীক।
ইতালি বিএনপির এক নেতা তার বক্তব্যে বলেন, "একুশ আমাদের চেতনার উৎস। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ভাষা ও দেশের প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।"
প্রবাসী এক বাংলাদেশি বলেন, "বিদেশে বসবাস করলেও আমরা আমাদের শেকড় ভুলে যাইনি। সন্তানদের বাংলা ভাষা শেখানো এবং একুশের ইতিহাস জানানো আমাদের দায়িত্ব।"
সভায় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, তাৎপর্য এবং বর্তমান প্রজন্মের কাছে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। শেষে ভাষা শহীদদের স্মরণে কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
প্রবাসে জাতীয় দিবস উদযাপনের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও ভাষার প্রতি ভালোবাসা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রবাসীরা।
Comments