নির্বাচনের পর চমক, সপ্তাহ শেষে আবার পতন
নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ের খবরে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে বড় উত্থান দেখা যায়। একদিনেই ডিএসইএক্স সূচক ২০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে যায়। একই সঙ্গে দৈনিক লেনদেন একলাফে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ঘর ছাড়িয়ে যায়। চলতি সপ্তাহে টানা তিন দিন ডিএসইতে লেনদেন ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ঘরে থাকলেও গতকাল তা কমে ৯০০ কোটির ঘরে নেমে আসে। আর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন প্রায় অর্ধেকে নেমে দাঁড়ায় ৫৬০ কোটি টাকায়।
ডিএসইএক্স সূচকের বড় উত্থানের পরদিন থেকেই সূচকের পতন শুরু হয়। সপ্তাহের বাকি চার কার্যদিবসেই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সূচক কমেছে ৫৩ পয়েন্টের বেশি। দরপতন হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ কোম্পানির। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৩ দশমিক ২০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৬৫ পয়েন্টে নেমেছে। অপর সূচক ডিএসইএস ১০ দশমিক ১৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৫ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএস-৩০ সূচক ১২ দশমিক ১৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আজ ডিএসইতে ৫৫৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৯৩৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৩৭৬ কোটি টাকার বেশি।
দিনটিতে মোট ৩৯২টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৬টির, কমেছে ৩১৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩টির। খাতভিত্তিক লেনদেনে শীর্ষে ছিল ব্যাংক খাত, যেখানে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এর পরের অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন এবং বস্ত্র খাত।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর সপ্তাহের শুরুতে সূচকে একদিনের এবং লেনদেনে কয়েক দিনের চমক দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত বাজার আবার নিম্নমুখী ধারায় ফিরে এসেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই এ সময়ে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর সূচক যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল, বর্তমান পতনের গতি ততটা তীব্র নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাজার পুনরায় স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
Comments