ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন
মার্কিন সামরিক তৎপরতার জবাবে রণকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের নৌ-মহড়া শুরু করেছে তেহরান। মহড়ার অংশ হিসেবে কৌশলগত এই জলপথের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অচলাবস্থার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন যেকোনো রণতরী ধ্বংস করার মতো বিধ্বংসী মারণাস্ত্র ইরানের ভাণ্ডারে মজুত রয়েছে।
সংঘাতের আবহের মধ্যেই পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে গত মঙ্গলবার জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। বৈঠক শেষে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আলোচনাকে 'ইতিবাচক ও গঠনমূলক' বলে অভিহিত করলেও হোয়াইট হাউসের সুর কিছুটা ভিন্ন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, কিছু অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো অনেক দূরে এবং সবটুকুই নির্ভর করছে ইরানের পরবর্তী প্রস্তাবের ওপর।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি একদিকে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির আশা দেখাচ্ছেন, অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিতে ইসরায়েলি হামলাকে সমর্থন দেবে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে শান্তির প্রস্তাব এবং অন্যদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি-ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী নীতি পুরো অঞ্চলকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরান তাদের নতুন পরমাণু প্রস্তাব পেশ করার কথা রয়েছে। এই সময়টুকুই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যে বারুদের ধোঁয়া উড়বে নাকি কূটনৈতিক পথে সমাধান আসবে।
Comments