সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আজ প্রথমবারের মতো মন্ত্রিপরিষদের শপথ
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে প্রধানমন্ত্রী ও পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ নেবেন। আজ বিকেল ৪টায় এই শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। পরে তাঁরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।
এরপর দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় সংসদ নেতা নির্বাচিত হবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রচলিত রীতি ভেঙে নতুন সরকারের শপথ বঙ্গভবনের বাইরে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হচ্ছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির ইচ্ছাতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
কারণ এই সংসদ সব রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু; যেখানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ এবং গণ-অভ্যুত্থানের ত্যাগ, কষ্ট ও বেদনার স্মৃতি রয়েছে।
সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের শপথ ঘিরে অন্তর্বর্তী সরকারের দিক থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গতকাল বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি। এর আগে দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে নতুন মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান, মঙ্গলবার সকালে দুই দফায় শপথ অনুষ্ঠান হবে। প্রথমে সংসদ সদস্যদের শপথ এবং পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ।
এরপর বিকেলের দিকে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য গাড়ি ও দেহরক্ষী থাকেন। পাশাপাশি তাঁদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়, সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হয়, তাঁদের অফিসকে অ্যালার্ট করতে হয়, অফিসার-কর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হয়। এসব প্রস্তুত করা হয়েছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, নতুন সরকারের সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শপথ অনুষ্ঠানে কমবেশি এক হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি যোগ দিতে পারেন। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবালসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন। যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রাও আসছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরো জানায়, শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব দাপ্তরিক প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সংসদ সচিবালয় এরই মধ্যে শপথের অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন নিশ্চিত করতে যাবতীয় কাজ শেষ করেছে। বিশেষ করে প্রটোকল এবং নিরাপত্তা থেকে শুরু করে অতিথি সেবা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখা যৌথভাবে কাজ করছে। এরই মধ্যে সংসদ ভবনের ভেতর ও বাইরে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির কাজ শেষ হয়েছে।
সূত্র জানায়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংসদ সচিবালয় নির্বাচিতদের দুটি শপথের বিষয়ে প্রস্তুতি নিলেও বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এই শপথ নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। কারণ দলটি মনে করে, বিদ্যমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে কিছু নেই। বিদ্যমান সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে বিভিন্ন পদের শপথের বিষয়ে বলা আছে। সেখানে সংসদ সদস্যদের শপথের কথা আছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বিষয় নেই।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করা। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সাংবিধানিকভাবে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অ্যাভেইলেবল না থাকলে বা অপারগ হলে বা তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধি না থাকলে দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এস এম নাসির উদ্দিন। তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। সে হিসেবে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ হবে। এটা সিইসির সাংবিধানিক এখতিয়ার আছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, সংসদ সদস্যদের শপথের পর দুপুর ১২টায় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে দলনেতা নির্বাচিত হবেন। এরপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বলবেন, সংসদে তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তাঁকে সরকারপ্রধান করার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি অনুরোধ জানাবেন তিনি। রাষ্ট্রপতি দলনেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভায় সদস্যদের নির্বাচিত করবেন। প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করাবেন। আর নতুন সরকারের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিলুপ্তি ঘটবে।
Comments