বাংলা ভাষায় কথা বলায় মারধর ও হিন্দুদের হত্যা চলছে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, তাকে জেলে ভরা হোক বা গুলি করা হোক— তিনি কোনও কিছুকেই ভয় পান না। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) হুগলি জেলার সিঙ্গুরে এক জনসভায় কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, 'আমাকে জেলে ভরো বা গুলি করো, আমি পরোয়া করি না। আমি সব কিছুর জন্য তৈরি আছি। আমি জেলে গেলে মা-বোনেরা জবাব দেবে।'
এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে মানুষের নাম বাদ দেয়া, বাংলা ভাষাভাষীদের ওপর নির্যাতন এবং রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে এই হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। তার দাবি, পরিকল্পিতভাবে এনআরসি চালুর চেষ্টা চলছে এবং এর মাধ্যমে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে।
মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'আমাকে যদি আঘাত না করেন আমি খুব ঠান্ডা, শীতল বাতাসের মতো বয়ে যাই কিন্তু আঘাত করলে আমি প্রত্যাঘ্যাত করি, আমি টর্নেডো হয়ে যাই। আমি তুফান হয়ে যাই, ঝড় হয়ে যাই, কালবৈশাখী হয়ে যাই। আমাকে রোখার সাধ্য আপনাদের নেই'।
তিনি অভিযোগ করেন, বাংলা ভাষায় কথা বললেই বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা, রাজস্থান, দিল্লি ও মধ্যপ্রদেশে মানুষকে মারধর করা হচ্ছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গে কেউ কারও অধিকার কেড়ে নেয় না। তার ভাষায়, 'কেউ পক্ষে থাকতে পারে, বিপক্ষে থাকতে পারে— এটাই গণতন্ত্র। তাই বলে তাকে হত্যা করতে হবে? এজেন্সিকে লেলিয়ে দিতে হবে?'
তৃণমূল কংগ্রেস প্রধানের অভিযোগ, এসআইআরের আড়ালে এনআরসি কার্যকর করার ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, 'চক্রান্ত করে মানুষের নাম কাটা হচ্ছে। যারা হত্যা ও দমননীতি নিয়ে রাস্তায় নেমেছে, আমি তাদের ধিক্কার জানাই'। তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘু ও উপজাতিদের পাশাপাশি অনেক হিন্দুর নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে। তার মতে, 'ওরা হিন্দু-হিন্দু করে হিন্দুদেরও হত্যা করছে।'
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, 'সরকার কে গড়বে, সেটা মানুষ ঠিক করবে— নির্বাচন কমিশন নয়। এটা গণতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র নয়'। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলার ভাষা ও অধিকার কেউ দখল করতে পারবে না।
রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা ভয় পাবেন না। শরীর খারাপ করবেন না, আত্মহত্যা করবেন না। এটা বাংলা। আমি একজনকেও ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে দেব না। এখানে কোনও এনআরসি হবে না'। তিনি বলেন, কেন্দ্রের অহংকার ভেঙে দেয়া হবে এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
নিজের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে মমতা বলেন, 'আমি মরে গেলেও কথা রাখব। আমি মিথ্যা বলি না। আমাদের সরকার মানুষের সরকার— মা, মাটি ও মানুষের সরকার'। তিনি জানান, যতদিন তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন কন্যাশ্রী, ঐক্যশ্রী ও স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ প্রকল্প বন্ধ হবে না।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দিল্লি যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের এই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন। তার ভাষায়, 'আমার আজকেই দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল। দিল্লি কা লাড্ডুর একটু চেহারা দেখার জন্য। কিন্তু যেহেতু একটা ঘটনা ঘটে গেছে, তাই আমি যেতে পারিনি। কিন্তু আজ না হলে কালকে আমি যাবই। কারণ আপনারা (বিজেপি) মানুষের অধিকার কাড়বেন, আর আমি চুপ করে বসে থাকব এটা হয় না। দরকার হলে আমিও আদালতে গিয়ে দাঁড়াব।'
Comments