চীনে সামরিক অভ্যুত্থানের গুজব
চীনে সামরিক অভ্যুত্থান বা ক্ষমতা দখলের চেষ্টা হয়েছিল, এমন গুজব সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি চীনের সেনাবাহিনীর (পিপলস লিবারেশন আর্মি) শীর্ষ পর্যায়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রদবদল, তদন্ত এবং বরখাস্তের ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিশেষ করে কয়েকজন উচ্চপদস্থ জেনারেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার পর থেকেই অনলাইনে "সামরিক অভ্যুত্থান" সংক্রান্ত আলোচনা জোরালো হয়।
কিছু অনলাইন সূত্রে দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর একটি অংশ অসন্তুষ্ট ছিল এবং ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালানো হতে পারে। তবে চীনা সরকার এ ধরনের সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ এবং সেনাবাহিনীর ওপর কমিউনিস্ট পার্টির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতেই নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিং ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সেনাবাহিনীর ওপর নিজের কর্তৃত্ব জোরদার করার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি সামরিক কাঠামোতে সংস্কার, নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং কঠোর শৃঙ্খলা আরোপ করছেন। এই প্রক্রিয়াকে অনেকেই ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন,অভ্যুত্থানের আলামত হিসেবে নয়।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও বলছেন, চীনের মতো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রে বড় ধরনের সামরিক অভ্যুত্থান ঘটলে তার স্পষ্ট লক্ষণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃশ্যমান হতো। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব-এই তিনটি বিষয় মিলেই গুজব ছড়ানোর পরিবেশ তৈরি করেছে।
Comments