ইরানে সরকার বিরোধী আন্দোলন দমনের ভিডিওতে যা দেখা গেল
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে নতুন যাচাইকৃত ভিডিওতে। এসব ভিডিওতে একটি হাসপাতালে মরদেহ স্তূপ করে রাখা, ভবনের ছাদে স্নাইপার মোতায়েন এবং নজরদারি ক্যামেরা ভাঙচুরের দৃশ্য দেখা গেছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে বিবিসি ভেরিফাই ইরানজুড়ে এর বিস্তার পর্যবেক্ষণ করছে, তবে দেশজুড়ে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের প্রকৃত মাত্রা নথিভুক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, তারা ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতায় প্রায় ৬,০০০ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে, যাদের মধ্যে ৫,৬৩৩ জনই বিক্ষোভকারী। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও পাওয়া আরও ১৭,০০০ সম্ভাব্য মৃত্যুর খবর তারা তদন্ত করছে। নরওয়ে-ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR) সতর্ক করে বলেছে, চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা ২৫,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ৩,১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, তবে তাদের বক্তব্য—নিহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা "দাঙ্গাবাজদের" হামলার শিকার সাধারণ মানুষ।
পশ্চিম তেহরানের একটি মহাসড়কে ধারণ করা ভিডিওতে শত শত মানুষকে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরই একাধিক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায় এবং মানুষ চিৎকার করতে করতে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের নজরদারি এড়াতে সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট করার চেষ্টার দৃশ্যও পাওয়া গেছে। রাজধানীতে ধারণ করা এক ভিডিওতে একজন ব্যক্তি একটি খুঁটিতে উঠে বারবার আঘাত করে একটি নজরদারি ক্যামেরা অচল করার চেষ্টা করছে, আর নিচে থাকা বিক্ষোভকারীদের বড় একটি ভিড়কে উল্লাস করতে শোনা যায়।
বিবিসির অনুসন্ধানে ইরানের অন্তত ৭১টি শহর ও নগরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের বিস্তার শনাক্ত করা হয়েছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
৮ জানুয়ারি থেকে অধিকাংশ মানুষের জন্য ইন্টারনেট প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে কিছু মানুষ স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ও ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করে অল্প সময়ের জন্য সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইন্টারনেট বন্ধে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আরও ভিডিও ও তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।
Comments