নীলফামারীর ক্ষুদে বিজ্ঞানীর প্রতিভা থমকে গেছে আর্থিক সংকটে
ড্রোন, রকেট ও মিসাইল প্রযুক্তি নিয়ে উদ্ভাবনী গবেষণা করেছেন ক্ষুদে বিজ্ঞানী দেব স্বারতী তীর্থ,কিন্তু অর্থাভাবে থমকে আছে তার গবেষণা।নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী দেভ স্বারতি তীর্থের হাত ধরে স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখছে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি। করোনাকালীন অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শেখা দিয়ে যে পথচলা শুরু, তা এখন তাকে নিয়ে গেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে। বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন ক্ষুদ্র প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি দেব স্বারথী তীর্থ নির্মাণ করেছেন একটি অত্যাধুনিক মাল্টি-ফাংশনাল ড্রোন। এই ড্রোনে রয়েছে নজরদারি, অবজেক্ট ট্র্যাকিং, স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশনসহ মিলিটারি গ্রেড অপারেশনের উপযোগী একাধিক ফিচার।
ড্রোনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেন্সর ব্যবহার করে নির্দিষ্ট এলাকা স্ক্যান করতে সক্ষম। স্বল্প সময়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও কার্যকর এই প্রযুক্তি। ড্রোন প্রযুক্তির পর এবার তার গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দু, রকেট ও মিসাইল সিস্টেম।তিনি বলেন, এই মিসাইল সিস্টেমে সংযোজন করা হয়েছে অবজেক্ট ডিটেকশন অ্যালগরিদম, লো-রাডার সিগনেচার ডিজাইন এবং এভেসিভ ম্যানুভারিং টেকনিক। ফলে শত্রুপক্ষের পাল্টা মিসাইল আক্রমণ থেকেও আত্মরক্ষার সক্ষমতা রাখবে এটি।
এছাড়াও ভবিষ্যতে সাবমেরিন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার রূপরেখা প্রস্তুত করছেন দেব স্বারথী তীর্থ। পানির নিচে নজরদারি ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের লক্ষ্য নিয়েই এই পরিকল্পনা।বাবা তাপস কুমার দাস, মা সঞ্চীতা সাহা দৈনিক নববানী স্টাফ রিপোর্টারকে বলেন,
এই উদ্ভাবনী গবেষণার স্বীকৃতি মিলেছে জাতীয় পর্যায়ে। একাধিকবার অর্জন করেছেন স্বর্ণপদক। রকেট ও মিসাইল গবেষণায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এবার আমন্ত্রণ পেয়েছেন ইন্দোনেশিয়া থেকে।
তবে প্রতিভার এই অগ্রযাত্রায় বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। এর আগেও মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও অর্থের অভাবে সেই যাত্রা সম্ভব হয়নি। এবার ইন্দোনেশিয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও অর্থসংকটে থমকে আছে গবেষণা ও ভ্রমণ। এছাড়া জলঢাকা ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিন্দ্র নাথ রায় বলেন,একজন কিশোর, যার হাতে লুকিয়ে আছে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সম্ভাবনা। যার মেধা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ে যেতে পারে নতুন উচ্চতায়। আজ তার প্রয়োজন শুধু সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা। রাষ্ট্র কিংবা সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে দেব স্বারথী তীর্থের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে।
Comments