দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলনে অংশ নিতে ঢাকায় আসছে মালদ্বীপের প্রতিনিধি দল
দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ১২–১৫ জানুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ সফর করবে। ঢাকায় হোটেল লা মেরিডিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা সম্মেলনে অংশগ্রহণ উপলক্ষে এই সফর হচ্ছে।
প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেবেন মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক স্টেট মিনিস্টার ফাতিমাথ মোহাম্মদ। সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলটি মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নজমুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার বাংলাদেশ–মালদ্বীপ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যতম কৌশলগত স্তম্ভ হিসেবে শিক্ষা কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি চিকিৎসা শিক্ষা, প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি ও সামাজিক বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মালদ্বীপীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য সাতটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে চিকিৎসা বৃত্তি প্রদান করলেও সেগুলো এখনও পূর্ণমাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে না।
হাইকমিশনার আরও বলেন, স্বল্প ব্যয়ে মানসম্মত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সরাসরি বিমান যোগাযোগ বাংলাদেশের প্রতি মালদ্বীপীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। তার মতে, শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা একটি কার্যকর সফট পাওয়ার ও জনকূটনৈতিক হাতিয়ার, যা দীর্ঘমেয়াদে জনগণ-থেকে-জনগণের সম্পর্ককে দৃঢ় করে।
জবাবে স্টেট মিনিস্টার ফাতিমাথ মোহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতকপ্রাপ্ত মালদ্বীপীয় চিকিৎসকরা দেশে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও জোরদার করেছে। তিনি শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্য প্রচার ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে মালদ্বীপে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত।
সাক্ষাতের শেষে হাইকমিশনার প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান এবং সফরকালে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি শিক্ষা কূটনীতি ও জনকূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ–মালদ্বীপ সম্পর্ককে আরও গভীর ও টেকসই করার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Comments