ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নারী-শিশুসহ নিহত ৭
ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগর তীরবর্তী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওডেসা বন্দরে রাশিয়ার শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর চালানো এই হামলায় আরও কমপক্ষে ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
ওডেসা অঞ্চলের বন্দর অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এই আকস্মিক হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধের তীব্রতা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সিয়ে কুলেবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছেন।
ওডেসা ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র এবং শস্য রপ্তানির জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। ওলেক্সিয়ে কুলেবা জানিয়েছেন যে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ওডেসার পিভদেন্নি বন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রুশ বাহিনী। হামলার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই সাতজন প্রাণ হারান এবং আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়া বারবার ওডেসার বন্দরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানালেও সাম্প্রতিক এই হামলাটি ইউক্রেনের রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, কেবল বন্দর নয় বরং ওডেসার যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও পঙ্গু করে দিতে চাইছে রুশ বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার ওডেসার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ধ্বংস করে দেয় রুশ সেনারা।
এই সেতুটি ধ্বংস হওয়ার ফলে ইউক্রেনের প্রধান নদীবন্দর রেনি এবং পার্শ্ববর্তী দেশ মলদোভা ও রোমানিয়ার সীমান্ত ক্রসিংয়ের সঙ্গে ওডেসার সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক রসদ সরবরাহে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শস্য ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির জন্য ইউক্রেন ওডেসার তিনটি প্রধান বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। রাশিয়ার এই ধারাবাহিক হামলাগুলো মূলত ইউক্রেনের অর্থনীতিকে দুর্বল করার একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
যুদ্ধের শুরু থেকেই কৃষ্ণ সাগরের আধিপত্য নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে রয়েছে, যার প্রভাব বিশ্ব খাদ্য বাজারের ওপরও পড়ছে। ইউক্রেন সরকার এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
Comments