সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ইউসিবি ব্যাংকের আরো ৭ পরিচালকের শেয়ার জব্দ
আদালতের আদেশে শুধু সাবেক ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান এবং তার স্ত্রীই নয় ২৬টি একাউন্টের মাধ্যমে ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক-ইউসিবির আরো সাতজন সাবেক পরিচালকের শেয়ার জব্দ করা হয়েছে। দুদকের আবেদনে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের রায়ে মোট ৫৭০ কোটি টাকার শেয়ার জব্দ করা হয়েছে।
অবরুদ্ধ অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে ইউসিবিলের অন্য যেসব সাবেক পরিচালক রয়েছেন তারা হলেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমিলা জামান , বশির আহমেদ, আনিসুজ্জামান চেৌধুরী, এম এ সবুর, বজল আহমেদ, নুরুল ইসলাম চৌধুরী এবং রুক্সানা জামান।
দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজামান চৌধুরীর স্ত্রী,ভাই,ভাইয়ের স্ত্রী এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের শেয়ারবাজারের লেনদেনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ২৬টি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) একাউন্ট ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর ফলে এইসব একাউন্ট ব্যবহার করে কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনা-বেচা করতে পারবেন না অভিযুক্তরা। দুদক সুত্রে জানা গেছে এসব একাউন্টে মোট ৫৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৭৭ টি মেযার রয়েছে। বর্তমান বাজারে যার আনুমানিক মূল্য ৫৭৬ কোটি ৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। এর আগে দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মশিউর রহমান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭এর ১৮(১) ধারা অনুযায়ি একাউন্ট জব্দ করার আদেশ দেয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন।
জানা গেছে ২৬টি অবরুদ্ধ একাউন্টের মধ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী রুকমিলা জামানের ৩১ লাখ ৯৩০ টি শেয়ার, বশির আহমেদের ৩১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮৫,সাবেক মন্ত্রীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরীর ৪৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯৭৩ টি , তার স্ত্রী রুক্সানা জামানের ৩১ লাখ ৩ হাজার ৮৯, এম এ সবুরের ৩৩ লাখ ৬৭ হাজার ১০৮ , বজল আহমেদের ২৫ লাখ ৮৫ হাজার ৬৪২, নুরুল ইসলাম চৌধুরীর ৩১ লাখ ১ হাজার ৩৭৬, আসিফুজ্জামান চৌধুরীর ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪৬৬টি শেয়ার রয়েছে।
আদালত সুত্রে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সাতটি কোম্পানির বিও অ্যাকাউন্টও আদালতের আদেশের আওতায় এসেছে। এ কোম্পানিগুলো হলো ভলকার্ট ট্রেডিং লি. লিজেন্ডারি এসেট ম্যানেজমেন্ট লি,স্পেলেন্ডেড ট্রেডিং লি, আরামিট থাই এলমিনিয়াম, অর্ডেন্ট এসেট মেনেজমেন্ট লি, নাহার মেটালস লি ও এরোমেটিক প্রোপার্টিস লি। এই প্রতিটি কোম্পানিই সাইফুজ্জামান চৌধুরী বা তার পরিবারের মালিকানাধীন অথবা ঘনিষ্টদের মাধ্যমে পরিচালিত বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনায় ফিরে এলে ২০১৪ সালে পরই ইউসিবিএল-এর পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হন সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পরিবার। ২০১৮ সালে পুরোপুরিভাবে ব্যাংকের দায়িত্ব নেয় তার পরিবার। নিজে মন্ত্রী হবার পর স্ত্রী রুকমিলা চৌধুরীকে বানান ব্যাংকের চেয়ারম্যান। গত বছর গনঅভূত্থানে প্রধানমন্ত্রীসহ পুরো মন্ত্রিসভার সদস্যরা পালিয়ে গেলে অর্ন্তবর্তি সরকার যে ১২টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুর্নগঠন করে তার মধ্যে অন্যতম ইউসিবিএল । তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোনো আর্থিক সহায়তা ছাড়াই ঘুরে দাড়াতে শুরু করে ব্যাংকটি। মাত্র দেড়মাসেই এক লাখেরও বেশি নতুন গ্রাহক সংগ্রহ করে তারা , বাড়ে আমানতের পরিমানও। এরই মধ্যে পুজিবাজারেও বাড়ে ব্যাংকটির শেয়ারের দাম। অন্যদিকে সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তার স্বজনরা পালিয়ে গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমান অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠে। যেমন ওঠে অপর পরিচালক বশির আহমেদের বিরুদ্ধেও। আত্মগোপনে থাকায় অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হযনি। আর ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান আদালতের আদেশ সম্পর্কে কতৃপক্ষ আপাতত কোনো মন্তব্য করতে রাজী নয়।
Comments