অযত্নে সিলেট বাস টার্মিনাল; ১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ের সুফল নেই

শতাধিক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। উদ্বোধনের আগেই অব্যবস্থাপনায় ডুবে আছে টার্মিনালটি। অযত্ন অবহেলায় ভবনের অভ্যন্তরে থাকা দামি জিনিসপত্রগুলো নষ্ট হচ্ছে। বিশাল ওয়েটিং লাউঞ্জের চেয়ারগুলোয় জং ধরেছে। ভেতরের ইলেকট্রনিক্স ফিটিংসগুলোও ঝুলে আছে। টার্মিনালের অত্যাধুনিক অনেক জিনিসপত্র ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, নগরীর কদমতলি এলাকায় ৮ একর ভূমিতে প্রায় ১১৭ কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত হয়েছে 'সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল'। প্রায় দু'বছর আগে দৃষ্টিনন্দন এই টার্মিনাললের নির্মাণকাজ শেষ হলেও নির্মাণে ত্রুটি, নামকরণসহ নানা জটিলতায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন হয়নি। তবে বছর দেড়েক আগে পরীক্ষামূলকভাবে টার্মিনাল চালু হয়েছে। সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মূল স্থাপনায় কোনো ত্রুটি ছিল না, সৌন্দয্য বর্ধনের কিছু জায়গায় নকশায় ক্রটির জন্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। এসব অসংগতি দূর করার কাজ চলছে। এসব সমস্যার সমাধান হলেই টার্মিনালের উদ্বোধন করা হবে।
এদিকে, উদ্বোধনের আগেই অযত্ন অবহেলায় টার্মিনালের ওয়েটিং লাউঞ্জের বেশিরভাগ চেয়ার ভেঙে গেছে। ফাঁটল দেখা দিয়েছে ভবনের একাধিক অংশে। যাত্রীদের জন্য প্রায় দেড় হাজার আসনের বিশাল ওয়েটিং লাউঞ্জের অনেক কক্ষে থাকা চেয়ারে জং ধরেছে। কোথাও কোথাও চেয়ারের হাতলের অংশ রয়েছে তবে, বসার অংশটুকু নেই। এছাড়াও ভবনের ভেতরে একাধিক স্থানে ইলেকট্রনিক্স ফিটিংসগুলোও ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। কারুকার্যময় লাল ইটের দেয়ালে জমেছে ধুলো। ইট রঙের স্টিলের ছাউনিতে জং পড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, টার্মিনালে একটার পর একটা বাস এসে একদিকে ঢুকছে আবার অন্য পথ দিয়ে বের হচ্ছে। যাত্রীরা উঠানামা করছেন। অনেকে ওয়েটিং রুমে বসে বাসের অপেক্ষা করছেন। টিকিট কাউন্টারে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে দেখা গেল পাশের বিশাল সড়কের পুরোটা জুড়েই দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে শত শত গাড়ি। সড়কজুড়ে এলোপাতাড়ি গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও পথচারীদের।
সিসিক সূত্র জানায়, মিউনিসিপ্যাল গভর্নমেন্ট সার্ভিস প্রজেক্ট–এমজিএসপি প্রকল্পের আওতায় সিলেট সিটি করপোরেশন সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে। প্রায় ৮ একর জমির ওপর এই টার্মিনাল নির্মাণ কাজে ব্যয় ধরা হয় ১১৭ কোটি টাকা। এরমধ্যে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য ৫৬ কোটি টাকা এবং টার্মিনালের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৬১ কোটি টাকা।
সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলাম ঢাকা জার্নালকে জানান, টার্মিনালে বাস রাখার জায়গার তুলনায় বিল্ডিং বেশি হয়ে গেছে। আমাদের প্রায় ১ হাজারের মতো বাস আছে। কিন্তু টার্মিনালে মাত্র দেড়শো থেকে দুইশোর মতো বাস রাখা যায়। বাকি বাস আগের মতোই রাস্তায় রাখতে হয়।
এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান ঢাকা জার্নালকে বলেন, টার্মিনালটি পরীক্ষামূলক চালুর সময় নানা অসংগতি ধরা পড়ে। এসব অসংগতি দূর করার কাজ চলছে। কিছু কিছু সমস্যা আছে সেগুলো দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, টার্মিনালের নাসকরণসহ আরও কিছু জটিলতা রয়েছে। আমরা এ সংক্রান্ত একটি ফাইল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত সাড়া মেলে নি।
Comments