ইরানের সঙ্গে সব ধরণের ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ করল আমিরাত
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির উত্ততাপ নতুন করে আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় ইরানের সঙ্গে যাবতীয় বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক কড়া বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক আফরা আল হামেলি জানিয়েছেন, 'আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বিরাজমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের ব্যবসা, বাণিজ্যিক বিনিময় এবং আর্থিক লেনদেন স্থগিত করা হলো।'
এই কঠোর ঘোষণার প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকদের মোবাইল ফোনে একটি জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই বার্তায় 'সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার' ঝুঁকি জানিয়ে বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে সংক্ষিপ্ত সময়ের ব্যবধানেই সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।
এর আগে চলতি বছরের মে, জুন ও জুলাই মাসেও অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কবার্তার মুখোমুখি হতে হয়েছিল দেশটির বাসিন্দাদের। নতুন করে এই অচলাবস্থার পেছনে ভূমিকা রেখেছে সম্প্রতি আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি 'এডনক'-এর মালিকানাধীন তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোতে বারবার হামলা চালানোর ঘটনা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় ধকল পোহাতে হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। ইরান থেকে আসা প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে দেশটি।পরবর্তীতে জুনে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও সম্প্রতি তা ভেস্তে যায়।
এদিকে একই দিন ইরানের বিরুদ্ধে পারস্য উপসাগরে আন্তর্জাতিক নৌযান লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের গুরুতর অভিযোগ এনেছে আবুধাবি।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমে চিহ্নিত করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি সীমান্ত এলাকার বাইরে এবং অন্যটি তাদের নিজস্ব জলসীমায় সাগরে গিয়ে পড়ে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই আন্তর্জাতিক নৌচলাচলকে নিশানা করে ছোড়া হয়েছিল। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকায়ি এই দাবি 'সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও প্রত্যাখ্যানযোগ্য' বলে অভিহিত করে জানান, এ ধরনের অভিযোগ আঞ্চলিক আস্থা ও নিরাপত্তা উদ্যোগকে বিঘ্নিত করে।
অবশ্য একই সঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ হুঙ্কার দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধই রাখা হবে।
Comments