হরমুজ প্রণালি চালুর পথে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমান: ঘোষণা আজই আসতে পারে
হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমান। দুটি আঞ্চলিক সূত্র এবং এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, আজ বুধবারই এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল করা এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করা।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও কিছুটা সময় দিতে গত শনিবার ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সাময়িকভাবে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে খুব দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের গ্রিন সিগন্যাল দিতে পারেন তিনি।
সম্ভাব্য এই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের ওপর ইরানের কিছু কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির দাবি পূরণ হতে পারে, যা যুদ্ধের আগে তেহরানের ছিল না।
আঞ্চলিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওমান ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার মেয়াদ হবে ৬০ দিন, যা পরবর্তীতে নবায়ন করা যেতে পারে। চুক্তির প্রধান শর্তগুলো হলো:
-
জাহাজ চলাচল: প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী সব জাহাজ ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে উত্তর লেন ব্যবহার করবে। অপরদিকে আরব সাগরের দিকে বহিগামী জাহাজগুলো ইরানের সাথে সমন্বয় করে ওমানের জলসীমার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ লেন দিয়ে চলাচল করবে।
-
শুল্ক মওকুফ: এই ৬০ দিনের অস্থায়ী মেয়াদে কোনো ধরনের শুল্ক বা ফি ধার্য করা হবে না।
-
মাইন অপসারণ: আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালির মধ্যবর্তী লেন থেকে সব ধরনের সামুদ্রিক মাইন পরিষ্কারের কাজ শেষ করা হবে। মধ্যবর্তী লেনটি সম্পূর্ণ নিরাপদ হওয়ার পর ওমান ও ইরানের মধ্যকার স্থায়ী চুক্তির শর্তাধীনে তা নিয়মিত চলাচল এবং বন্দর ব্যবহারে উন্মুক্ত করা হবে।
চুক্তির পথে অবশ্য সংশয় ও অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতাও রয়েছে। এর আগে তিন সপ্তাহ আগেও একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছিল পক্ষগুলো; কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে পুনরায় জাহাজে হামলা শুরু হলে তা ভেস্তে যায় এবং দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নেয়।
ওমান ও ইরানের সরাসরি আলোচনার পাশাপাশি এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় কাতার, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের কর্মকর্তারাও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও এই প্রক্রিয়ায় জোরালো যোগাযোগ বজায় রাখা হয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির মধ্যে বেশ কয়েক দফা ফোনালাপ হয়।
সূত্রগুলো আরও জানায়, গত সপ্তাহান্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নীতিগতভাবে এই চুক্তিতে সম্মত হলেও এর জন্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব সেই অনুমোদন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
Comments