মার্কিন হামলায় বিধ্বস্ত ইরানের সামরিক স্থাপনা, পাল্টা জবাব আইআরজিসির
দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলমান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনা চললেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে তীব্র হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর পর, এর জবাবে ইরানি বাহিনীও একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন 'এমকিউ-১' ড্রোন ভূপাতিত করেছিল ইরান। মূলত এই উসকানিমূলক পদক্ষেপের জবাবেই ইরানের উপসাগরীয় উপকূলে মার্কিন যুদ্ধবিমান দ্রুত অভিযান চালায়। এই হামলায় ধ্বংস হয়েছে ইরানের একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন। দুটি আক্রমণাত্মক ড্রোন (যা ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি ছিল)।
মার্কিন হামলার পরপরই সোমবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ ইরানে হামলা চালাতে ব্যবহৃত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে কোন ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
এদিকে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'কুনা' জানিয়েছে, সোমবার তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সামরিক ঘাঁটি থাকায় দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে ইরান ও লেবাননের হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এপ্রিলের শুরুতে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা ভঙ্গ করে প্রায়ই হামলা-পাল্টাহামলা চলছে। যুদ্ধের জেরে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালি' কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য (যদিও ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে)। তবে আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের ওপর হরমুজ প্রণালি চালু ও তেলের দাম কমানোর তীব্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো কোনো সমাধান আসেনি। এর পেছনে প্রধান জটিলতাগুলো হলো: ১. ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। ২. বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির হাজার হাজার কোটি ডলার ফেরত পাওয়ার দাবি। ৩. লেবানন পরিস্থিতি।
রবিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করতে লেবাননের আরও ভেতরে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ধাপে ধাপে উত্তেজনা কমিয়ে আনার জন্য লেবানন ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন।
Comments