ইরান কীভাবে যুদ্ধের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করতে চাইছে ?
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান নতুন একটি শর্ত সামনে এনেছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। তেহরান এই প্রণালির ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি করছে এবং একই সঙ্গে এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে নিয়মিত টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই টোল থেকে বছরে কয়েক শ কোটি ডলার আয় করা সম্ভব হতে পারে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর গুরুত্ব অপরিসীম, এবং দীর্ঘদিন ধরেই ইরান এটিকে একটি শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
বর্তমান সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাণিজ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইরান বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে প্রণালিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দিনা এসফান্দিয়ারি এর মতে, ইরান এখন বুঝতে পেরেছে যে অল্প খরচে কীভাবে বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করা যায় এবং তারা এটিকে নতুন আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে আগ্রহী।
তবে ইরানের এই পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কো রুবিও এই উদ্যোগকে 'অবৈধ ও বিপজ্জনক' আখ্যা দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলপথে একতরফা নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে অবস্থান নিতে হবে। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি অবরোধ বা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ ইরান হাতছাড়া করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরান সত্যিই টোল আদায় শুরু করতে পারে, তাহলে তাদের আয় সুয়েজ খাল থেকেও বেশি হতে পারে। সিএনএন এর একটি হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার থেকে যদি ২০ লাখ ডলার করে ফি আদায় করা যায়, তবে মাসিক আয় ৮০ কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞ জেমস ক্রাসকা মনে করেন, আন্তর্জাতিক জলপথে এ ধরনের টোল আদায়ের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এর মধ্যেই কিছু জাহাজ নিরাপদ চলাচলের জন্য গোপনে ইরানকে অর্থ প্রদান করছে বলে যে গুঞ্জন উঠেছে, তা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।
Comments