লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু: ১০ জনই সুনামগঞ্জের
লিবিয়া থেকে সাগরপথে অবৈধভাবে গ্রিস যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১০ জনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। এছাড়া জেলার আরও এক যুবক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মাধ্যমে জানা গেছে, একটি ছোট নৌকায় ৩৮ জন বাংলাদেশি ও ৫ জন সুদানিসহ মোট ৪৩ জনকে তুলে দেয় দালালচক্র। ইঞ্জিনের ত্রুটি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নৌকাটি ডুবে গেলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। জীবিত ফিরে আসা কিশোরগঞ্জের এক যুবক জানান, নিহতদের মরদেহ দুই দিন নৌকায় রাখা হয়েছিল। পরে পচে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় মাঝ সমুদ্রে সেগুলো ফেলে দেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জের নিহত ও নিখোঁজদের তালিকা
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ জেলার নিহত ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে:
-
জগন্নাথপুর উপজেলা (৫ জন): আমিনুর রহমান (৩৫), শায়ক মিয়া (২০), নাঈম মিয়া (২২), আলী হোসেন (২৫) এবং ইবাদত হক সুহানুর (২২)।
-
দিরাই উপজেলা (৪ জন): মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০), মো. সাহান (২৫), মো. সাজিদুর রহমান (২৮) এবং মুজিবুর রহমান (৪০)।
-
দোয়ারাবাজার উপজেলা (১ জন): ফাহিম আহমেদ মুন্না (২০)।
-
নিখোঁজ: দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের তারেক (২২) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নিহতদের স্বজনরা জানান, উন্নত জীবনের আশায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে দালালের মাধ্যমে এই মরণযাত্রায় সামিল হয়েছিলেন তারা। জগন্নাথপুরের আমিনুর রহমানের পরিবার জানায়, তাকে তিন মাস লিবিয়ার 'গেমঘরে' আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। দিরাইয়ের নিহত নুরুজ্জামান ময়নার পরিবার জানায়, দালাল মুজিবুর রহমানের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে তিনি রওনা হয়েছিলেন। অভিযুক্ত দালাল চক্রের মধ্যে ছাতকের দুলাল মিয়া ও তার ভাই বিল্লালের নাম উঠে এসেছে, যারা দেশ ও প্রবাসে বসে এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার জানিয়েছেন, তারা স্থানীয়ভাবে চারজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। অন্যদিকে, জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, "আমরা নিহতের খবর পেয়েছি, তবে প্রকৃত সংখ্যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।"
সুনামগঞ্জজুড়ে এখন চলছে স্বজন হারানোর হাহাকার। সচেতন নাগরিক সমাজ এই অবৈধ মানবপাচারের সাথে জড়িত দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
Comments